বরিশালে ‘অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেড’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অণ্ডকোষ চেপে ধরে এবং পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে জোরপূর্বক ব্যাংক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে নগরীর সদর রোডের টপটেনের সামনে থেকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই ঘটনার বিষয়ে বিকেলে পুলিশ কমিশনার মো. আসিক সাঈদ সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানাবেন।
এদিকে এই বর্বরোচিত ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর যুবদলের ভাবমূর্তি রক্ষায় রোববার দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম তছলিম দাবি করেন, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু যুবদলের কোনো নেতা বা কর্মী নন। তিনি বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনাকে যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, অভিযুক্ত লিটু মূলত যুবদলের রাজনীতির সঙ্গেই সরাসরি জড়িত এবং তাঁর বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি হওয়ায় এলাকায় তাঁদের ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে।
এর আগে গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর সদর রোডে অগ্রণী হাউজিংয়ের কার্যালয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। শনিবার রাতে ওই ঘটনার লোমহর্ষক সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা মুহূর্তেই দেশজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, যুবদল নেতা লিটু চারজন সহযোগী নিয়ে এমডির কক্ষে প্রবেশ করে তাঁকে মারধর ও অণ্ডকোষ চেপে ধরে চরম নির্যাতন চালাচ্ছেন এবং জোরপূর্বক চেক ও সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী এমডি আব্দুল আজিজ জানান, লিটু একসময় তাঁদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরবর্তী সময়ে হিসাব নিষ্পত্তি করে দেওয়া হলেও তিনি অন্যায়ভাবে ১ কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। ঘটনার দিন অফিসে ঢুকে তাঁর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক ও দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এই ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করলে আদালত কোতোয়ালি থানাকে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়ার আগে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ঘটনার সময় যাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন তাঁরা সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং এমডি আব্দুল আজিজ পরিচালকদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তবে সিসিটিভি ফুটেজে নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণ মেলায় পুলিশ আজ তাকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।







