ভারতে অবস্থানরত পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের বিষয়টি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতে অবস্থানরত কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা, বিশেষ করে জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বিভিন্ন বক্তব্য নজরে এসেছে। এসব বক্তব্যে ঢাকাকে ‘রক্তের বন্যায় ভাসিয়ে দেওয়ার’ আহ্বান এবং মোহাম্মদপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিহত করার কথা বলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারের মতে, এ ধরনের প্রচারণা দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ভারতে অবস্থান করে তারা যে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার আগেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কথা বলেছে এবং ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন মামলার আসামি, কারও বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং কেউ কেউ ইতোমধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত। ফলে তাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগের পরিবর্তে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টিই গুরুত্ব পাওয়ার কথা।
সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাত নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের সময় ধাওয়া খেয়ে তুরাগ নদে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ এবং পরে নদী থেকে কয়েকটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও আলোচনায় আসে।
এ বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অপ্রত্যাশিত। সরকার ঘটনাটির তদন্ত করছে এবং এতে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং ওই পরিস্থিতিতেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক না কেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের জীবনও সমানভাবে মূল্যবান। তারা রাষ্ট্রের নাগরিক এবং তাদের প্রতিও সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে রাষ্ট্রের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দলটি নিষিদ্ধ হয়নি, বরং তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, আদালত সব পক্ষের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নেবে এবং যদি দলটির ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করা হয়, তাহলে তারা আবারও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবে।







