বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ গণভোটে দেওয়া জনগণের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই রায় কার্যকর না হলে দেশের রাজনীতি সংঘাতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
মঙ্গলবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদের ন্যাম ভবনের সামনে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাইয়ের শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী যোদ্ধাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সব গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এটি ঘোষিত ৩৬ দিনের কর্মসূচির অংশ।
এর আগে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে ছয় দফা দাবি-সংবলিত একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন সংরক্ষিত নারী আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য এবং শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা রোকেয়া বেগম।
গোলাম পরওয়ার বলেন, স্পিকারের কাছে তারা প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতাকে সঙ্গে নিয়ে গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইনি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, স্পিকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, বুধবার সকাল ১০টায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে সংসদ পরিচালনা করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি দাবি করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজন হলে আবারও গণআন্দোলন গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে তিনি জুলাইয়ের ঘটনাসহ সব গণহত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়া শহীদ পরিবারের সদস্যরাও বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, অনেক মামলার আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি, সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা জামিন পাচ্ছেন। এতে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, জাগপার মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. আবদুল ওহাব মিনারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।







