বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল-২০২৬ পাস হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান। তিনি মনে করেন, চিকিৎসা খাতে মুনাফাভিত্তিক কার্যক্রম বাড়লে এর প্রভাব সরাসরি জনগণের ওপর পড়বে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিল-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বিলে ‘প্রফিট’ ও ‘নন-প্রফিট’—উভয় ধরনের কার্যক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির আয়ের লক্ষ্য থাকলে চিকিৎসা ব্যয়ও স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে পারে। তিনি বলেন, একদিকে বাজেটে জনগণের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে এই বিলের কিছু বিধান সেই উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের শেয়ারভিত্তিক কার্যক্রম চালু হলে চিকিৎসা খাতে অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের তুলনায় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বেশি সুবিধা পেতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিলটি কেবল উপস্থাপিত হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সময় সদস্যরা প্রয়োজনীয় মতামত ও সংশোধনী উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন। তিনি শফিকুর রহমানের চিকিৎসা খাতে অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আলোচনায় সক্রিয় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ কমিটির বৈঠকের নোটিশ নিয়ে ক্ষোভ
একই অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিশেষ কমিটির বৈঠকের নোটিশ দেরিতে পাওয়ার অভিযোগ করেন সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি জানান, সকাল ১০টার বৈঠকের জন্য তাকে সকাল ৯টা ১৯ মিনিটে বার্তা পাঠানো হয় এবং পরে বৈঠক চলাকালে ফোন করে উপস্থিত হতে বলা হয়।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত অল্প সময়ের নোটিশে গুরুত্বপূর্ণ কমিটির বৈঠকে উপস্থিত হওয়া কীভাবে সম্ভব।এ অভিযোগের পর স্পিকার সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতিকে ভবিষ্যতে সদস্যদের যথেষ্ট সময় আগে বৈঠকের নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ভুল-ত্রুটি হতে পারে, তবে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।







