ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে মার্কিন সামরিক সম্পদ আরও সুরক্ষিত রাখতে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো ইসরায়েল, মিসর ও আশপাশের দেশগুলোতে স্থানান্তর করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সাবেক প্রধান জেনারেল ফ্র্যাঙ্ক ম্যাকেঞ্জি। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-এর এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
সম্প্রতি জিউইশ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অব আমেরিকা আয়োজিত এক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে ম্যাকেঞ্জি বলেন, কাতারে অবস্থিত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে সেন্টকমের ফরোয়ার্ড সদর দপ্তর রাখা কৌশলগতভাবে মোটেও যৌক্তিক নয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ ইরান থেকে মাত্র ১০০ মাইল দূরে সেন্টকমের সদর দপ্তর রাখবে না, অথচ সেটিই এখন সেখানে রয়েছে।
২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ম্যাকেঞ্জি জানান, ২০২২ সালেই তাঁরা বাইডেন প্রশাসনকে সতর্ক করেছিলেন যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানি হামলার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সে সময় যুদ্ধকালীন বিকল্প হিসেবে ইসরায়েল ও মিসরসহ আরও পশ্চিমে ঘাঁটি ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হলেও বাইডেন প্রশাসন তা ‘আগ্রাসীভাবে’ প্রত্যাখ্যান করে।
ম্যাকেঞ্জির মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ঘাঁটি ব্যবস্থা মূলত শীতল যুদ্ধের সময়কার একটি পুরোনো উত্তরাধিকার, যা বর্তমান সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তার মন্তব্যটি গত জুনে মিডল ইস্ট আই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সঙ্গে মিলে যায়, যেখানে বলা হয়েছিল যে ইরান মূলত মার্কিন ঘাঁটির দুর্বলতা উন্মোচন করে যুক্তরাষ্ট্রকে উপসাগরীয় উপকূল থেকে সরে যেতে বাধ্য করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রিয়াদের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যাপক হামলার পর গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের তাইফ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি পায়। একই সময়ে বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কাতারে সেন্টকমের সদর দপ্তর এবং কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন বিমানঘাঁটিও ইরানি হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহারের বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ টেনে ম্যাকেঞ্জি বলেন, যুদ্ধের শুরুতে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, যদিও পরে সৌদি আরব ও ইউএই এই জোটে অংশ নেয়। সেই তুলনায় স্বাগতিক দেশ হিসেবে ইসরায়েল মার্কিন বাহিনীর ওপর সবচেয়ে কম বিধিনিষেধ আরোপ করবে এবং সেখানে উন্নততর আকাশ প্রতিরক্ষা সুবিধাও পাওয়া যাবে।
সাবেক এই সেন্টকম প্রধানের পরামর্শ, আরব মিত্রদের প্রতি সংহতি প্রদর্শনের জন্য উপসাগরীয় ঘাঁটিগুলোকে মূলত জ্বালানি ভরা বা লজিস্টিক সহায়তার কাজে ব্যবহার করা উচিত। তবে দীর্ঘমেয়াদি ও প্রধান সামরিক উপস্থিতি এবং সদর দপ্তর দ্রুত ইসরায়েল, মিশর এবং সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকায় স্থানান্তর করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।







