কক্সবাজারের টেকনাফে ৩০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত বন্য মা হাতিটি অবশেষে মারা গেছে। আজ রোববার সকাল ১০টায় হাতিটি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করে। টেকনাফের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ হাতিটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, আহত হাতিটিকে সুস্থ করে তুলতে আমাদের চিকিৎসা ও সেবা পরিচর্যায় কোনো ত্রুটি ছিল না। এমনকি উন্নত চিকিৎসার জন্য ডুলহাজারা সাফারি পার্ক থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলও আনা হয়েছিল। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে হাতিটি মারা যায়।
এর আগে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যাংপাড়া ও সদর বনবিটের শিয়াল্যাঘোনা এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ের নরম মাটি ধসে যাওয়ায় বন্য মা হাতিটি প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন।
পরবর্তীতে বন্যপ্রাণী চিকিৎসক ড. মোস্তাফিজের নেতৃত্বে বিশেষায়িত এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে হাতিটির নিবিড় চিকিৎসা ও পরিচর্যা চালানো হচ্ছিল। চিকিৎসকেরা আশা করেছিলেন, কয়েক দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখলে হাতিটি হয়তো সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছিলেন, পাহাড় থেকে বন্য হাতি পড়ে যাওয়ার খবর শুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন হাতিটির চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং সেটিকে সুস্থ করে তুলতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর চিকিৎসা জোরদার করা হলেও শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।







