ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো প্লাবিত হয়ে আছে। তবে চলমান বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার পেছনে শুধু বৃষ্টিপাত বা প্রাকৃতিক কারণ নয়, বরং কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা ও রাজনৈতিক প্রভাবকেই দায়ী করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতা-কর্মীদের মালিকানাধীন মাছ ও লবণের ঘের রক্ষা করতে বেআইনিভাবে নদী ও খালের স্লুইসগেটগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপকূলীয় অঞ্চলের স্লুইসগেটগুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুলে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে বিএনপি নেতা-কর্মীরা নিজেদের ঘের বাঁচাতে কিছু গেট জোরপূর্বক আবার বন্ধ করে দিচ্ছেন।
স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী, জোয়ারের সময় স্লুইসগেটগুলো বন্ধ রাখা হয় যেন সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ভেতরে ঢুকতে না পারে। আর ভাটার সময় গেটগুলো খুলে দেওয়া হয়, যেন উজানের বন্যার পানি নদী হয়ে সাগরে চলে যেতে পারে। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নদী-খালের স্লুইসগেট বন্ধ করে, খাল দখল করে এবং মাছ চাষের জন্য অবৈধ বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়েছে।
সম্প্রতি চকরিয়ার বদরখালী এলাকার পাঁচ কপাটের একটি স্লুইসগেট পরিদর্শন করে দেখা গেছে, পানির স্রোতের গতি কমাতে কাঠের তক্তা দিয়ে গেটের সিংহভাগ অংশ আটকে রাখা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা ও তাঁদের অনুসারীরা সেখানে জাল পেতে লাখ লাখ টাকার মাছ শিকার করছেন। স্লুইসগেট আটকে দেওয়া এবং খালের ওপর অবৈধ বাঁধ নির্মাণের কারণে বন্যার পানি সাগরে নামতে পারছে না, যার খেসারত দিতে হচ্ছে লাখো পানিবন্দি সাধারণ মানুষকে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম জানান, উপকূলীয় এলাকায় সাধারণত দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার কথা নয়। কিন্তু ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্লুইসগেট বেআইনিভাবে বন্ধ রাখায় কৃত্রিম ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে প্রশাসন এখন নিয়মিতভাবে স্লুইসগেটগুলো পর্যবেক্ষণ করছে।
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও শাহিন দেলোয়ার বলেন, বেআইনিভাবে স্লুইসগেট বন্ধ রাখার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন ও পুলিশ চলে যাওয়ার পর প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অপারেটরদের ভয় দেখিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে নিজেদের স্বার্থে গেটগুলো আবার বন্ধ করে দিচ্ছে। তবে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও পাউবো কর্মকর্তারা বর্তমানে এসব অবৈধ বাঁধ কেটে দেওয়ার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।







