যাত্রীদের চরম ভোগান্তি ও একের পর এক মিথ্যাচারের অভিযোগ উঠেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের (US-Bangla Airlines) বিরুদ্ধে। ঢাকা থেকে চেন্নাইগামী একটি ফ্লাইটে প্রায় ৮ ঘণ্টা বিলম্বের পর, এসি ও ফ্যান ছাড়াই অসুস্থ রোগীদের নিয়ে উড্ডয়নের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। সামিয়া শতাব্দী নামের এক যাত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নারকীয় অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে একটি পোস্ট করার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই যাত্রী জানান, আজ সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ইউএস-বাংলার ঢাকা-চেন্নাইগামী ফ্লাইটটি ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বিমানটি ঢাকা ছাড়ে সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে। ফ্লাইট বিলম্বের কারণ হিসেবে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ প্রথমে বৈরী আবহাওয়া, এরপর দুবাই থেকে আসা বিমানের কারিগরি ত্রুটির কারণে সিলেটে অবতরণ এবং সবশেষে জ্বালানি সংকটের মতো একাধিক অজুহাত দেখায়।
আসল ভোগান্তির শুরু হয় বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে যাত্রীদের বিমানে তোলার পর। উড্ডয়নের আগে ও পরে দীর্ঘ পথযাত্রায় বিমানের এসি এবং ফ্যান সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। চেন্নাইগামী এই ফ্লাইটের অধিকাংশ যাত্রীই ছিলেন ক্যানসার, হার্ট ও স্ট্রোকের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত বয়োবৃদ্ধ এবং শিশু। এসি ও বাতাস ছাড়া বদ্ধ বিমানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে অসুস্থ রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা চরম শ্বাসকষ্ট এবং গরমে ছটফট করতে থাকেন। এক এজমার রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করার প্রায় এক ঘণ্টা পর অক্সিজেন সরবরাহ করা হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এই চরম সংকটের মধ্যেও ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ একের পর এক মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছে। ‘আর ৫ মিনিট পর এসি চালু হবে’—বলে তারা পুরোটা সময় পার করে দেয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসি চালু করা হয়নি। কেবিন ক্রুদের বরাতে ভুক্তভোগী যাত্রী জানান, বিমান ছাড়ার আগেই কর্তৃপক্ষ জানত যে এসি নষ্ট। তারা যাত্রীদের ভেতরে বসিয়ে রেখে এসি ঠিক করার চেষ্টা করে এবং ব্যর্থ হয়ে ওই অবস্থাতেই চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে বিমান উড়িয়ে দেয়। মূলত নিজেদের ব্যবসায়িক লাভ-ক্ষতির কথা চিন্তা করে ফ্লাইট বাতিল বা বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা না করেই এই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর বিমানসেবার মান, যাত্রী নিরাপত্তা এবং এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করার পরও অসুস্থ রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এমন অমানবিক হয়রানি ও প্রতারণার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার দাবি করছেন সাধারণ মানুষ। তবে এই বিষয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।







