তেজগাঁও এলাকায় স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের দালাল হিসেবে পরিচিত একদল বিতর্কিত সংবাদকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে ধরে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে সাধারণ জনতা। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের পা-চাটা দালালি, জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যাকারীদের পক্ষে অবস্থান এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো সংবেদনশীল ঘটনায় বিতর্কিত ভূমিকার কারণে আমজনতা তাঁদের ওপর চড়াও হয়।
এই দালাল চক্রের মধ্যে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পরিচিত তোষামোদকারী প্রভাষ আমিন, অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন, এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হিসেবে পরিচিত জ ই মামুন ও মুন্নী সাহাসহ ৪/৫ জনের একটি আওয়ামী সাংবাদিক গ্যাং।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, তেজগাঁও এলাকায় এই ফ্যাসিবাদের দোসরদের একসঙ্গে দেখে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং চারদিক থেকে তাঁদের ঘিরে ধরেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জনতা এই দালালদের পুলিশে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। সে সময় চরম জনরোষের মুখে পড়ে তীব্র আতঙ্কে মেহের আফরোজ শাওন চেয়ারে উল্টো ঘুরে মুখ লুকিয়ে বসে থাকেন। চারপাশে জনতার ক্ষোভ ও স্লোগানের মধ্যে শাওনের এভাবে আতঙ্কিত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে উল্টো ফিরে বসে থাকার দৃশ্যটি উপস্থিত সবার নজর কাড়ে।
উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে ঘেরাওয়ের মুখে পড়া গণহত্যাকারী ও ফ্যাসিবাদীদের সহযোগী এই গ্যাংটি আত্মরক্ষার্থে পাশে থাকা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ‘চ্যানেল আই’-এর কর্মীদের কাছে জরুরি সাহায্য প্রার্থনা করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, চ্যানেল আইয়ের কয়েকজন কর্মীর পক্ষপাতমূলক ও তাৎক্ষণিক সহায়তায় জ ই মামুন, মুন্নী সাহা ও প্রভাষ আমিনসহ পুরো আওয়ামী দালাল চক্রটি ঘেরাওস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষের স্পষ্ট দাবি, বিগত স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থাকে অন্ধভাবে মদদ দেওয়া এবং জনগণের সেন্টিমেন্টের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এই খুনিদের দোসরদের আইনি ও সামাজিকভাবে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। যেহেতু এদের এখনো আনুষ্ঠানিক বিচার হচ্ছে না, তাই দেশের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এই ধরনের ফ্যাসিবাদের দালালদের রাজপথে প্রতিহত করবে এবং তাঁদের সম্পূর্ণরূপে সামাজিকভাবে বয়কট করার ডাক দিয়েছে।







