রাশেদ খান বলেন, এনসিপির কিছু নেতার বক্তব্য, বিশেষ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য, রাজনৈতিক অঙ্গনে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে যেভাবে মন্তব্য করা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক শালীনতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে এনসিপিকে তিনি পরামর্শ দেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ছাড়া অন্য নেতাদের নিয়ে কর্মসূচি পালন করলে বিএনপি সহযোগিতা করবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে বাধা দিতে চায় না। তবে বিভিন্ন জেলায় গিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের উদ্দেশে আপত্তিকর বক্তব্য দিলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলায় এনসিপির সাম্প্রতিক বক্তব্যের কারণে স্থানীয় জনগণ অসন্তুষ্ট হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাশেদ খানের বক্তব্যের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা। গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, বিএনপি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং দলটির একটি অংশ বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মে জড়িত। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
ওই কর্মসূচি শেষে এনসিপির নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা-কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার প্রতিবাদে এনসিপি বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করলে পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেয় স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে।
পরবর্তীতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। একই সময়ে সিলেটে দলটির কয়েকজন নেতার গাড়িতে হামলার অভিযোগও ওঠে। এসব ঘটনার জেরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
এদিকে বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঘোষণা দেন, তিনি আপাতত কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন না। তিনি বলেন, নিজের ওপর হামলা এবং সার্জিস আলমের গাড়িতে হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং এরপর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন।
অন্যদিকে ঝিনাইদহের অনুষ্ঠানে রাশেদ খান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তিনি সহনশীল ও সংলাপমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। বিরোধী দলগুলোর উচিত রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রেখে গণতান্ত্রিক পরিবেশে কর্মসূচি পরিচালনা করা।
অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।







