সংস্কার ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যকার ঐক্য এখনো অটুট রয়েছে বলে দাবি করেছেন জামায়াতের শীর্ষ নেতারা। বিরোধী মতকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে সরকার এই ঐক্যে ভাঙন ধরানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। ১১ দলীয় জোট থেকে এনসিপি বেরিয়ে যাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সঠিক নয় বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে জোটের সমীকরণ নতুন না হলেও, সংস্কার ও গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দাবিতে কাছাকাছি অবস্থানে থেকে জামায়াত ও এনসিপিসহ ইসলামী দলগুলো ঐক্য গড়ে তুলেছিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনপরবর্তী সময়ে এই রাজনৈতিক বোঝাপড়া আরও নিবিড় হলেও সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আস্থার সংকটের কারণে দুই দলের মধ্যে দূরত্ব বাড়ার কথা বলা হয়।
তবে এই গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দুই দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির জানান, ১১ দলীয় জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম পলিটিক্যাল কাউন্সিল বা এক্সিকিউটিভ কমিটির কোনো ফোরামেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। কর্মীদেরও এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ জানান, নির্বাচনী সমঝোতার পর থেকে তারা সংসদে ও রাজপথে একসঙ্গে ভূমিকা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কার আন্দোলনকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
খেলাফত মজলিসসহ জোটের দু-একটি শরিক দল কিছু নিয়মিত কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকলেও, ১১ দলীয় জোটের নেতারা জোর দিয়ে বলছেন যে সব শরিক দল এখনও গণআন্দোলন ও সংস্কারের দাবিতে একতাবদ্ধ রয়েছে এবং সরকারের ফাঁদে পা দেবে না।







