ইসরাইলের সঙ্গে চলমান গাজা যুদ্ধে পরিবারের অন্তত ৭৫ জনের বেশি ঘনিষ্ঠ সদস্য এবং তাদের বিস্তৃত ‘আল-হাজ্জ’ গোত্রের প্রায় ২৫০ জন সদস্যকে হারিয়েছেন হামাসের সাবেক রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়া। তার হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন তার ছেলে আবদুল সালাম হানিয়া।
সাক্ষাৎকারে তিনি ঘরের দেয়ালে টাঙানো পারিবারিক ছবির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ছবিতে থাকা স্বজনদের একটি বড় অংশই ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল ঈদুল ফিতরের দিন ইসরাইলি বিমান হামলায় ইসমাইল হানিয়ার তিন ছেলে—হাজেম, আমির ও মোহাম্মাদ এবং তাদের কয়েকজন সন্তান নিহত হন।
বাবার স্মৃতিচারণ করে আবদুল সালাম বলেন, পরিবারের কাছে ইসমাইল হানিয়া ছিলেন একজন শিক্ষক, পরামর্শদাতা, রাজনৈতিক নেতা এবং স্নেহশীল অভিভাবক। তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকা এবং তাদের সেবা করার শিক্ষা দিতেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানে অবস্থানকালে ইসমাইল হানিয়া নিহত হন। পরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ওই হত্যাকাণ্ডে ইসরাইলের সংশ্লিষ্টতার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন।
আবদুল সালাম হানিয়া ফিলিস্তিনিদের প্রতি তুরস্কের রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে বলেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বে দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা সফল হবে। তার মতে, একটি কার্যকর চুক্তি গাজার পুনর্গঠন এবং ইসরাইলি বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহারের পথ সুগম করতে পারে।
গাজায় চলমান মানবিক সংকটের কথা তুলে ধরে আবদুল সালাম বলেন, যুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনি শিশুদের নিরাপদে বেঁচে থাকা, শিক্ষা গ্রহণ এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইলি হামলায় আরও ১ হাজার ২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৫৩ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত মোট ৭৩ হাজার ৩৪৯ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৬২ জন আহত হয়েছেন।







