ঢাকার কাকরাইলে অনুষ্ঠিত ‘অগ্নিঝরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাদরাসা: ছাত্র-শিক্ষকদের অবদান ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সেমিনারে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষা ও আলেম সমাজকে অবমূল্যায়নের ধারা শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামল থেকেই শুরু হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইসলামের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের পর থেকেই মাদরাসা ও আলেমদের প্রতি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অবহেলা বৃদ্ধি পায়।
তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার পর আলেমদের রাজাকার ও রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা, নিপীড়ন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সমাজে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় না এবং জুলাই আন্দোলনেও তাদের ভূমিকা পর্যাপ্ত স্বীকৃতি পায়নি।
মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার পর সমাজে প্রত্যাশিত প্রতিবাদ না হওয়াও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক মানসিকতার প্রতিফলন। তাঁর মতে, মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের জ্ঞান, বিজ্ঞান ও নৈতিক নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে হবে এবং নিজেদের প্রাপ্য সম্মান নিজেদেরই আদায় করে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে তা’মীরুল মিল্লাতসহ বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষার্থীরা টঙ্গী, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা কওমি সনদকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিলেন।
সেমিনারে তিনি জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মুহাম্মদ খলিলুর রহমান মাদানী। প্রধান আলোচক ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। এছাড়া নূরুল ইসলাম বুলবুল, সিবগাতুল্লাহ সিবগা, মুফতি আলী হাসান উসামা, আবদুস সবুর ফকির, আবু তাহের জিহাদি, হাবীবুল্লাহ মুহাম্মদ ইকবাল ও আবুল কাশেম রাযিসহ বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব বক্তব্য দেন।







