জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সংকট, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিল’, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। প্রায় ৪৫ মিনিট সচিবালয়ের সামনে অবস্থান করেও সরকারের কোনো প্রতিনিধির সাক্ষাৎ না পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে তারা কর্মসূচি শেষ করে সেখান থেকে সরে যান।
বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে মিছিলটি সচিবালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
এর আগে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচি শেষে বেলা ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা হন। জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করার পরই পুলিশ তাদের পথরোধ করে।
সচিবালয়ের সামনে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি।”
সরকারের দায়িত্বশীল কোনো প্রতিনিধিকে এসে দাবি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যদি আমাদের এই মিছিল থামাতে চান, তাহলে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী অথবা তার প্রতিনিধিকে এখানে আসতে হবে। আমরা জনগণের পক্ষ থেকে দাবিগুলো তাদের হাতে তুলে দিতে চাই। তারা যদি জনগণের দাবি বাস্তবায়নে সফল হন, আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাব। কিন্তু ব্যর্থ হলে আমরা বসে থাকব না। আন্দোলনের পর আন্দোলন, কর্মসূচির পর কর্মসূচি চলতেই থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সম্মানের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধির হাতে আমাদের দাবি তুলে দিতে চাই। এজন্য আমরা এখানে ১০ মিনিট অপেক্ষা করব। এই সময়ের মধ্যে কেউ না এলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের অনুরোধে আমরা আপাতত এখানে থেমেছি। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপনাদের অনুরোধ করছি।”
কর্মসূচিতে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।







