ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ‘জুলাই-৩৬’ হলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ও রুমমেটদের অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও তাঁর প্রেমিকের কাছে পাঠানোর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হলের বেডরুমে ভিডিও কলে কথা বলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম তুবাউল জান্নাত ঐশী। ভুক্তভোগী ও রুমমেটদের অভিযোগ, ঐশী হলের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও গোপনে ধারণ করে তাঁর যুক্তরাজ্যপ্রবাসী প্রেমিক আবিদের কাছে পাঠাতেন। সম্প্রতি তাঁদের দুই জনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে ক্ষুব্ধ প্রেমিক সেই ছবি ও ভিডিওর কিছু অংশ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ইনবক্সে পাঠিয়ে দেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে হলের ছাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও নিজেদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ঐশী জানান, তিনি পরিস্থিতির শিকার হয়ে ছবিগুলো পাঠিয়েছেন। প্রেমিক আবিদ তাঁকে সারাক্ষণ ভিডিও কল দিত এবং তিনি কোন পরিস্থিতিতে আছেন তা বোঝাতেই রুমমেটদের ছবি পাঠাতেন। ঐশীর দাবি, এক সপ্তাহ আগে আবিদ তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি রাজি হননি, যার প্রতিশোধ নিতেই আবিদ এসব ছবি হলের অন্য মেয়েদের পাঠিয়ে তাঁকে বাজেভাবে ফাঁসাচ্ছেন।
অন্যদিকে, লন্ডনপ্রবাসী প্রেমিক আবিদ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ঐশীর একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। সে যখন অন্য মেয়েদের ব্যক্তিগত ছবি পাঠাত, তখন বারণ করলেও সে বিকৃত আনন্দ পেত এবং হাসাহাসি করত। আবিদের দাবি, ঐশীর পেছনে তিনি প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছেন এবং দুই মাস আগে তাঁর জন্য দেশেও এসেছিলেন, কিন্তু ঐশী তাঁর জীবন বিপর্যস্ত করে দিয়েছে।
ঘটনার পর হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. একেএম শামছুল হক ছিদ্দিকী ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে সর্বমোট ৭টি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা মেলায় অভিযুক্তকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে এবং আগামী ৯ আগস্ট পর্যন্ত আরও অভিযোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তারকে প্রধান করে গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।






