বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের পর ভিডিও ধারণ করে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে সেই স্পর্শকাতর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবদল কর্মী এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
নিন্দনীয় এই ঘটনাটি সম্প্রতি উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নে ঘটেছে। গত শুক্রবার বিকেল থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. শাহিন মৃধা, তিনি মাহিলাড়া ইউনিয়ন যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতারা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় লোকজনের বরাতে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে ওই ইউনিয়নের একটি বসতঘর থেকে এক যুবকের পাশাপাশি ওই নারীকে আটক করেন শাহিন মৃধা ও তাঁর সহযোগীরা। আটকের পর ওই নারীকে নানাভাবে হেনস্তা করা হয় এবং একপর্যায়ে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়। সেই ধারণকৃত ভিডিওটিই শুক্রবার ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিবস্ত্র অবস্থায় ভুক্তভোগী নারী নিজেকে বাঁচানোর জন্য আকুতি-মিনতি করছেন। কিন্তু সেই অনুনয় উপেক্ষা করে শাহিন নিজ হাতে ওই নারীর শরীর থেকে পোশাক সরিয়ে ভিডিও ধারণ করে চলেছেন। ভিডিওটিতে ওই নারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার স্পষ্ট দৃশ্য রয়েছে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জনরোষের ভয়ে অভিযুক্ত শাহিন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। তাঁর বক্তব্য নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এই বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মনির হোসেন আকন বলেন, শাহিন মৃধা যুবদলের কোনো আনুষ্ঠানিক পদ-পদবিতে নেই, তবে তিনি দলের একজন সক্রিয় কর্মী। ঘটনাটি জানার পর তাঁরা বিস্তারিত খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে যাবেন। ঠিক কী প্রেক্ষাপটে এই ভিডিও ধারণ করা হয়েছে তা তদন্ত করা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তাঁরা অবগত হয়েছেন। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।







