মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর জ্বালানি অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় এবার সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক বিস্তারের দিকে ঝুঁকছে কিউবা। সম্প্রতি আমেরিকা থেকে জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ঘনিষ্ঠ মিত্র ভেনিজুয়েলা থেকে তেল আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে ক্যারিবীয় এই দ্বীপরাষ্ট্রটিতে চরম ও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেয়।
এই অভূতপূর্ব জাতীয় জ্বালানি সংকট সামাল দিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে দ্রুতগতিতে ছোট-বড় নতুন নতুন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র (সোলার পার্ক) স্থাপন শুরু করেছে কিউবান সরকার। মার্কিন তেল অবরোধের মুখে নিজেদের পাওয়ার গ্রিডকে সচল রাখতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প সমাধান হিসেবেই মূলত সৌরশক্তিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এমন নানামুখী উদ্যোগের ফলে গত মাত্র দুই বছরে দেশটিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশেরও বেশি অর্জিত হচ্ছে এই সৌরশক্তি থেকে, যা দেশটির জ্বালানি খাতের ওপর থেকে বড় ধরনের চাপ কমিয়ে আনছে।
কিউবার এই দ্রুতগামী সৌরবিদ্যুৎ বিপ্লবের পেছনে সবচেয়ে বড় মিত্র ও সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখছে চীন। চীনের পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণে উচ্চমানের সোলার প্যানেল কিউবায় বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির পাশাপাশি দেশটির সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য নিঃশর্তে বিপুল পরিমাণ সোলার কিট অনুদান হিসেবে প্রদান করা হচ্ছে, যা দেশটির পাওয়ার গ্রিড ব্যবস্থার মোড় ঘুরিয়ে দিতে সাহায্য করছে।







