মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের দেওয়া নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে অঞ্চলটির প্রভাবশালী দেশগুলো এখন আমেরিকার বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের একক নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের মধ্যে নিজস্ব নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি করছে।
এই বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সৌদি আরব নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাথে একটি ত্রিদেশীয় ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা ‘মক্কা চুক্তি’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান পরাশক্তিগুলো প্রতিরক্ষামূলক এক অভিনব নিরাপত্তা জোটে আবদ্ধ হলো।
নতুন এই মক্কা চুক্তির ধারা অনুযায়ী, চুক্তিভুক্ত তিন দেশের (সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান) যেকোনো একটির ওপর শত্রুভাবাপন্ন সামরিক আক্রমণ সংঘটিত হলে তা জোটের বাকি দেশগুলোর ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এই যৌথ নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির আলোকে যেকোনো হুমকি বা হামলা মোকাবিলায় তিন দেশ একযোগে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এই আঞ্চলিক উদ্যোগ স্পষ্ট করে তুলে ধরছে যে, উপসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের সামরিক সুরক্ষার জন্য এখন আর কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এককভাবে নির্ভরশীল থাকতে রাজি নয়। আমেরিকার বাইরে গিয়ে আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি ও বিকল্প খোঁজার এই কৌশলগত পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের প্রভাব ধরে রাখা পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধাক্কা, যা এই অঞ্চলে নিজস্ব প্রভাব বিস্তারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সামনে একটি বড় ও অভাবনীয় কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।







