জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও জাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিদের মেয়াদকাল পর্যন্ত আবাসিক হলে থাকার বৈধতা দিয়ে জারি করা প্রশাসনিক প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)। প্রজ্ঞাপনটিকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা বাতিলেরও দাবি জানিয়েছেন জাকসু নেতারা।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করে এই দাবি জানান জাকসু প্রতিনিধিরা। অছাত্রদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে হলে থাকার এমন সিদ্ধান্ত জাবি ক্যাম্পাসে আবারও ক্ষতিকর ‘গণরুম-গেস্টরুম’ সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার পথ প্রশস্ত করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
সাক্ষাৎকালে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম জানান, সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য আইন বা নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনো প্রতিনিধিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারা গ্রহণ করবেন না। নতুন হলগুলোর নানা নির্মাণ ত্রুটি নিরসন কিংবা পুরোনো হলগুলো সংস্কারের মতো জরুরি কাজ বাদ দিয়ে, কারোর ব্যক্তিগত স্বার্থে তৈরি এমন প্রজ্ঞাপন নীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এই বিতর্কিত আদেশটি দ্রুত বাতিল করার জোরালো দাবি জানান তিনি।
একই সুর মিলিয়ে জাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ফেরদৌস আল হাসানও সব ধরনের বৈষম্যমূলক নীতি পরিহারের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগী না হয়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া অনুচিত। প্রশাসনকে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিতের পরামর্শের পাশাপাশি জাবির সার্বিক একাডেমিক সংস্কার ও সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানান তিনি।
জাকসুর পক্ষ থেকে প্রজ্ঞাপন বাতিলের অনড় অবস্থানের পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান শিক্ষার্থীদের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করেন। তিনি আশ্বাস প্রদান করেন যে, প্রজ্ঞাপনটি পুনর্বিবেচনার জন্য বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী প্রশাসনিক সভায় দ্রুত আলোচনা করা হবে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।







