বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশের জনগণ বিশেষ করে তরুণ সমাজ আর কারও রাজনৈতিক চোখ রাঙানি পাত্তা দেবে না। আজ সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সুবিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সাঘাটায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াতকর্মী সালাউদ্দিনের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
জনসমাবেশে বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতার সাম্প্রতিক রংপুর সফর ও বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, মানুষ কাকে ভোট দেবে আর কাকে দেবে না, তা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল নির্ধারণ করে দেওয়ার অধিকার রাখে না। অন্য রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, হাজার চেষ্টা করলেও কেউ আর আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিস্ট হতে পারবে না, তবে বর্তমানের কিছু আচরণ দেখে মনে হচ্ছে অনেকেই সেই একই পথেই পা বাড়াচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় দেশের উন্নয়ন হয়, তাই নির্দিষ্ট কোনো এলাকার মানুষকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করার অধিকার কারোর নেই।
সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে সোমবার সকালেই সাঘাটায় পৌঁছান ডা. শফিকুর রহমান। সেখানে তিনি নিহত ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ আগস্ট মারা যাওয়া জামায়াতকর্মী সালাউদ্দিনের কবর জিয়ারত করেন। এরপর তিনি দুই নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করে গভীর সমবেদনা জানান এবং সার্বিক খোঁজখবর নেন।
গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, জেলা জামায়াতের আমির ও সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজেদুর রহমান মাজেদ এবং গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু সহ জামায়াত ও শিবিরের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন সাঘাটার বোনারপাড়া এলাকায় এক সংঘাত ও সন্ত্রাসী হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হন ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াতকর্মী সালাউদ্দিন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইফুল্লাহ বারী ঘটনার কিছুদিন পরই মারা যান এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সালাউদ্দিন গত ৯ আগস্ট শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয় সমাবেশ থেকে।







