ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল থেকে সমকামিতার অভিযোগে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে আফিফ হাসান নীরব বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী ও নেতা বলে তথ্য পাওয়া গেছে। হলের শান্তিশৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে হল প্রশাসন এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও রাজনৈতিক মহলে এখন এই ছাত্রদল নেতার সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
বহিষ্কৃত আফিফ হাসান নীরব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আফিফ হাসান নীরব বিশ্ববিদ্যালয় ও হল শাখা ছাত্রদলের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয়। তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ছাত্রদলের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার রাজনৈতিক কর্মসূচির অসংখ্য পোস্ট, ব্যানার এবং দলীয় নেতাদের সাথে তোলা ছবি তিনি নিয়মিত শেয়ার করেছেন।
হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আফিফ ও মার্কেটিং বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আরিফুল হক শুভর বিরুদ্ধে হলে অনৈতিক ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে। এরপর হল কর্তৃপক্ষের একটি বিশেষ দল প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে ঘটনার সত্যতা পায়। পরবর্তীতে হলের আবাসিক শিক্ষক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাঁদের হল থেকে বহিষ্কারের নোটিশ দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের আবাসিক হলের সুষ্ঠু পরিবেশ ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যেকোনো ধরনের অনৈতিক ও শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। এদিকে একজন সক্রিয় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে সমকামিতার মতো সংবেদনশীল অভিযোগে হল বহিষ্কারের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্ররাজনীতিতে তীব্র সমালোচনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার অধিকতর তদন্তের জন্য গঠিত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী স্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।







