ঢাকার সাভারের এক এলাকায় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের মধ্যেই পাশ্ববর্তী আরেকটি গ্রামে প্রেশার কুকার বোমাসদৃশ রহস্যজনক বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল থেকে সম্ভাব্য বিস্ফোরক হিসেবে এই বস্তুটিকে নিরাপদ দূরত্বে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। স্থানীয় ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ইমরান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া প্রেশার কুকারটিতে শক্ত করে স্কচটেপ মোড়ানো রয়েছে, যা দেখতে কিছুদিন আগে আশুলিয়ায় উদ্ধার হওয়া শক্তিশালী বোমার মতোই মনে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে পুলিশ অনতিবিলম্বে ডিএমপির বিশেষজ্ঞ ও বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দলকে খবর দিয়েছে। তাদের অভিজ্ঞ টিম এসে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরই এটি আসলে কী, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এর আগে গত ৩০ জুলাই আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে প্রেশার কুকারের ভেতর রাখা একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করেছিল বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। সেই ঘটনার ঠিক ১২ দিনের মাথায় মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে সাভারের সাদাপুরে গোপের বাড়ী লালটেক এলাকায় পুনরায় একই রকম বোমাসদৃশ বস্তু দেখতে পান স্থানীয়রা। কাকতালীয়ভাবে, বস্তুটি যখন উদ্ধার হয়, তখন সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুরে জঙ্গি আস্তানায় রাতভর অভিযান চালাচ্ছিল সিটিটিসি।
শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন ওই বাড়িতে সিটিটিসির বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) দুর্ধর্ষ সদস্য আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে ওই আস্তানা থেকে পাইপ বোমা, গানপাউডার, অতি বিষাক্ত সায়ানাইডসহ বড় ধরনের নাশকতায় ব্যবহৃত বিস্ফোরক তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ আরও জানায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে সাদাপুরে ঘোড়া মসজিদের মাঠে একটি পরিত্যক্ত নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। ড্রামটির ভেতরে পুরাতন জামাকাপড়, পবিত্র কোরআন শরিফ এবং স্কচটেপ প্যাঁচানো বোমাসদৃশ প্রেশার কুকারটি রাখা ছিল। স্থানীয়রা কৌতূহলবশত ড্রাম থেকে কুকারটি বের করে মসজিদের উন্মুক্ত মাঠে রেখে দেন।
জানা গেছে, গভীর রাতে অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তি নীল রঙের ওই ড্রামটি মসজিদের মাঠে ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়। বুধবার সকালে বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পে জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি পুরোপুরি কর্ডন বা ঘিরে ফেলে এবং কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও ড্রাম রেখে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।







