চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে পদায়নের জন্য আবারও বিশাল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের এক চাঞ্চল্যকর চুক্তিপত্র ও গোপন নথির প্রমাণ পাওয়ার দাবি উঠেছে। ২৭তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে কর্মরত উপসচিব মো. আবদুল কুদ্দুসের নামে এই চুক্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। চট্টগ্রাম ডিসি পদের জন্য ২৯ কোটি টাকার এই চুক্তিপত্র, সুদ প্রদানের লিখিত সম্মতিপত্র এবং জামানত হিসেবে দেওয়া চেকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য ও নথির বিবরণ অনুযায়ী, তিনশত টাকার নন-জুডিশিয়াল স্টাম্পে জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম (ডিসি) পদের ‘নোটিফিকেশন লেটার’ বা পদায়নের প্রজ্ঞাপন সম্পাদনের জন্য প্রথম পক্ষ ও দ্বিতীয় পক্ষের মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবসায়িক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে প্রথম পক্ষ হিসেবে রয়েছেন মো. মনিরুজ্জামান, যিনি উপসচিব আবদুল কুদ্দুসের নিকটাত্মীয় হিসেবে পরিচিত। অত্যন্ত সুকৌশলে করা এই চুক্তিপত্রের প্রথম সাক্ষী হিসেবে স্বয়ং উপসচিব মো. আবদুল কুদ্দুসের নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে।
লিখিত সম্মতিপত্রটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মো. আবদুল কুদ্দুসকে চট্টগ্রাম জেলায় জেলা প্রশাসক পদে পদায়ন করা হলে তিনি সেখানে যোগদান করে দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন। আর এই লোভনীয় পদায়নের প্রজ্ঞাপন বা নোটিফিকেশন লেটারটি এনে দেওয়ার বিনিময়ে দ্বিতীয় পক্ষ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নগদ ২৯ কোটি টাকা দেওয়া হবে মর্মে চুক্তিপত্রে উভয় পক্ষ একমত হন। মোটা অঙ্কের সুদের বিনিময়ে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করার একটি চুক্তিও এর সাথে সংযুক্ত রয়েছে।
এই ঘটনাটি সামনে আসার পর প্রশাসনের সচেতন কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের কাছে জোর দাবি—যারা এভাবে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন কিংবা চড়া সুদে অর্থ এনে ডিসির মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিতে চাইছে, তাদের অনতিবিলম্বে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক। ২৯ কোটি কিংবা ৭০ কোটি টাকা খরচ করে কেউ যদি ডিসি নিযুক্ত হন, তবে চেয়ারে বসে তিনি জনগণের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও সীমাহীন দুর্নীতিতে জড়াবেন, যা দেশের সুশাসনের জন্য চরম হুমকি।







