শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে সাত মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে চরকুমারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি মিলন ঢালীর (৩৩) বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর থেকেই ওই ভুক্তভোগী পরিবারটিকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারকে হত্যা এবং পেট্রোল বোমা মেরে ঘরবাড়ি উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট দুপুরে ঢালীকান্দি এলাকায় বাবার বাড়িতে একা থাকার সুযোগে মিলন ঢালী ঘরে ঢুকে ওই নারীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে মিলন তাঁকে মারধর করে কেটে পড়েন। আহত অবস্থায় ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর আগে থেকেই মিলন তাঁকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন এবং এ বিষয়ে স্থানীয় মুরুব্বিরা তাঁকে সতর্কও করেছিলেন।
পরবর্তীতে গত ৯ আগস্ট ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে সখিপুর থানায় মিলন ঢালী ও আনোয়ার ঢালী নামের দুইজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেন। তবে অভিযোগ ওঠে, মামলা করার পরপরই গত ১১ আগস্ট মিলন ঢালী ফোন করে মামলা প্রত্যাহার না করলে পুরো পরিবারকে মেরে ফেলার এবং ঘরবাড়িতে পেট্রোল বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এর ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকা পরিবারটি বর্তমানে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে আতঙ্কে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে মিলন ঢালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ভুক্তভোগীর ভাইয়ের কাছে টাকা পাওনা কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল এবং এই মামলা সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’। এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এইচ এম জাকির হোসেন জানান, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে তাদের কোনো কমিটি সচল নেই এবং দলের নাম ভাঙিয়ে অপরাধ করলে ছাত্রদল তার দায় নেবে না।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসাইন জানান, ধর্ষণচেষ্টার মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ভুমকির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







