লিঙ্গ নির্ধারণ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জান্নাত বেগম ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কবিতা রায়কে নারী বিভাগীয় প্রতিযোগিতা থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে তাঁদের অর্জিত সব পদক ও রেকর্ড বাতিল ঘোষণা করে পরবর্তী স্থান অধিকারীদের দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের অ্যাথলেটিকসের শীর্ষ সংস্থাটি।
২০২৪ সালে এই দুই অ্যাথলেটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁদের বাহিনীদ্বয়। সেটির ভিত্তিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তাঁদের রক্ত ও শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে। সম্প্রতি হস্তান্তরিত প্রতিবেদনে চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী তাঁদের শরীরে ‘৪৬, XY DSD’ (লিঙ্গ বিকাশের তারতম্য) ধরা পড়ে, যা টেস্টোস্টেরন হরমোন ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে তাঁদের পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করে।
মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের ডিএসডি বিধিমালা অনুযায়ী নারী বিভাগে খেলার জন্য অ্যাথলেটের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রতি লিটারে ২.৫ এনএমওএল-এর নিচে থাকা বাধ্যতামূলক। তবে জান্নাতের রক্তে এর মাত্রা পাওয়া গেছে ১৯.৬৬ এবং কবিতার ক্ষেত্রে ১৬.৫০, যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে বহু গুণ বেশি।
এই মেডিকেল প্রতিবেদনের আলোকেই অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন জান্নাত ও কবিতাকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করে। এর ফলে জান্নাতের অর্জিত দুটি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ আটটি সোনা, একটি রুপা ও দুটি ব্রোঞ্জ এবং কবিতার অর্জিত তিনটি পদক বাতিল করা হয়।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে দুই বাহিনীর নারী দলের সঙ্গে তাঁদের প্রশিক্ষণ ও অবস্থান করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় নারীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা নিয়ে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ক্রীড়া অঙ্গনে এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন হওয়ায় পুরো বিষয়টির সার্বিক তদন্তের দাবি উঠেছে।







