সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল (পে স্কেল) এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে গঠিত সচিব কমিটি এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই নতুন পে স্কেল কার্যকর করা হবে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও পর্যালোচনা ও আলোচনা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর সুপারিশ
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সচিব কমিটি বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর আগে পে কমিশন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। তবে বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় সচিব কমিটি সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
প্রস্তাবিত কাঠামোতে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৭ থেকে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় এসব অঙ্কে পরিবর্তন আসতে পারে।
দুই ধাপে বাস্তবায়ন
নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরবর্তী ধাপে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সমন্বয় করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাজেটের ওপর প্রভাব, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি ব্যয়ের ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতনও সমন্বয়
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, শুধু পে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। এর সঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোসহ আরও কিছু বিষয় সমন্বয় করা হবে।
সোমবারের বৈঠকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামোর বিষয়টিও নতুন পে স্কেলের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
চলতি বছরেই কার্যকরের ঘোষণা
নবম পে স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
নতুন পে স্কেল চলতি বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বছরের মধ্যেই হবে।’
তবে বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও পর্যালোচনা ও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একটু একটু।’
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাজেটের ওপর প্রভাব, মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি এবং সরকারি ব্যয়ের ভারসাম্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পে কমিশনের সুপারিশ
সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন পে স্কেল নিয়ে আলোচনা চলছে। পে কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির মতামত এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত কাঠামো ঘোষণা করা হবে।
জানা গেছে, অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান ছিলেন কমিশনের প্রধান।
বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ দিতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।
কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই নতুন পে স্কেল কার্যকর করা হবে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও পর্যালোচনা ও আলোচনা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর সুপারিশ
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সচিব কমিটি বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর আগে পে কমিশন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। তবে বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় সচিব কমিটি সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
প্রস্তাবিত কাঠামোতে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৭ থেকে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় এসব অঙ্কে পরিবর্তন আসতে পারে।
দুই ধাপে বাস্তবায়ন
নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরবর্তী ধাপে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সমন্বয় করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাজেটের ওপর প্রভাব, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি ব্যয়ের ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতনও সমন্বয়
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, শুধু পে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। এর সঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোসহ আরও কিছু বিষয় সমন্বয় করা হবে।
সোমবারের বৈঠকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামোর বিষয়টিও নতুন পে স্কেলের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
চলতি বছরেই কার্যকরের ঘোষণা
নবম পে স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
নতুন পে স্কেল চলতি বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বছরের মধ্যেই হবে।’
তবে বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও পর্যালোচনা ও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একটু একটু।’
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাজেটের ওপর প্রভাব, মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি এবং সরকারি ব্যয়ের ভারসাম্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পে কমিশনের সুপারিশ
সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন পে স্কেল নিয়ে আলোচনা চলছে। পে কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির মতামত এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত কাঠামো ঘোষণা করা হবে।
জানা গেছে, অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান ছিলেন কমিশনের প্রধান।
বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ দিতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।







