বিগত ছয় মাসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে সংঘটিত নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের একটি সামগ্রিক চিত্র উঠে এসেছে। প্রাপ্ত সংবাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে মোট ১,৭৮৩টি পৃথক অপরাধের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
সহিংসতার বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে। সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সংঘাতের মাধ্যমে মোট ৭৩টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি অপরাধী ও ক্যাডারদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে ৪৫টি ধর্ষণের ঘটনা এবং নারী নির্যাতনের অভিযোগ এসেছে আরও ৪৮টি। এছাড়া রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রদর্শন এবং প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৪২৮টি স্থানে বড় ধরনের হামলা ও সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
আর্থিক অপরাধ ও আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিগত ছয় মাসে ১৯০টি স্থান ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি এবং আদায় করার ঘটনা ঘটেছে। একই সাথে জমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি দখলের ১০৪টি ঘটনা এবং ৫২টি স্থানে সরাসরি লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। এর বাইরে সরকারি কাজের নিয়ন্ত্রণ নিতে ২৪টি টেন্ডারবাজির ঘটনাও উন্মোচিত হয়েছে।
দেশের শিক্ষাঙ্গন ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও এই প্রভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র রাজনীতির নামে অসন্তোষ ও সহিংসতা সৃষ্টি করে ১২০টি শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। পাশাপাশি চুরি ও ডাকাতির ৮৯টি, মাদক সংক্রান্ত ১১১টি, অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার ও প্রদর্শনের ১১টি এবং ৫টি অপহরণের খবর উঠে এসেছে।
অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক অপরাধের মধ্যে আওয়ামী লীগের পলাতক বা বিতর্কিত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে ৫৯টি ‘লীগ পুনর্বাসন’-এর অভিযোগ এসেছে। এছাড়াও সরকারি ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ১৫টি দলীয়করণ, ৩টি মামলা বাণিজ্য, ৮৩টি দুর্নীতির ঘটনা এবং ৫২টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রকাশ্যে গুজব ও মিথ্যাচার ছড়ানোর তথ্য উঠে এসেছে। পাশাপাশি গণপ্রজাতন্ত্রী ব্যবস্থার বিপক্ষে গিয়ে ৫৩টি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়েছে।







