নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১২ বছর বয়সী মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বহুল আলোচিত মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হাতে পেয়েছে পুলিশ। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী শিশুটির জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ ৯৯.৯৯ শতাংশ মিলে গেছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের একটি কওমি মাদরাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। প্রাণনাশের ভয়ে শিশুটি বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে শারীরিক পরিবর্তন দেখে ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর প্রকাশ পায়। এরপর ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা দায়ের করলে র্যা ব-১৪ অভিযান চালিয়ে গত ৬ মে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অভিযুক্তের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর, গত ২ জুলাই ভুক্তভোগী শিশুটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে সিআইডি দল গত ২৮ জুলাই সেফহোমে গিয়ে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা পাঠায়। সদ্য প্রাপ্ত প্রতিবেদনে আসামির পিতৃত্ব বৈজ্ঞানিকভাবে শতভাগ নিশ্চিত হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি মো. নুরুল কবীর রুবেল জানান, এই নিরেট বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ফলে আসামির কোনো ধরনের অজুহাত বা দ্বিমত পোষণের সুযোগ নেই। মামলাটি প্রযুক্তিগত ও আইনগতভাবে বিচার প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং খুব দ্রুতই আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দেবে পুলিশ। রাষ্ট্রপক্ষ ও ভুক্তভোগী পরিবার মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির আশা করছেন।







