বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করার পরিণতি পাকিস্তানের জন্য ভালো হয়নি। রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষাকে অবমূল্যায়নের ফলেই একপর্যায়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ একসময় অখণ্ড ভারতের অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর ভারতীয় উপমহাদেশ মূলত দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়। সে সময় পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হয়।
তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা আকস্মিক কোনো ঘটনা ছিল না। এর পেছনে ছিল প্রায় ১৯০ বছরের বঞ্চনা, নির্যাতন, কান্না ও সীমাহীন ত্যাগের ইতিহাস। দীর্ঘদিনের শোষণ-বঞ্চনা থেকে জনগণকে মুক্ত করার লক্ষ্যে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
জামায়াত আমির বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য ও ব্যবধান বাড়তে থাকে। পশ্চিম পাকিস্তানে তিনটি প্রদেশ এবং পূর্ব পাকিস্তানে একটি প্রদেশ থাকলেও জনসংখ্যার বিচারে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। সে অনুযায়ী জাতীয় সংসদে আসনও জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু এরপরও রাষ্ট্রভাষা কী হবে, তা নিয়ে একটি অহেতুক প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি করা হয়।’
ডা. শফিকুর রহমানের ভাষ্য, তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষা ও ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করেছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষাকে অবমূল্যায়ন করে রাষ্ট্রভাষা নির্ধারণের যে অবস্থান তারা নিয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের জন্য ভালো ফল বয়ে আনেনি। বরং এর পরিণতিতে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে গড়ে ওঠা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালির জাতীয় চেতনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে এ আন্দোলন বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার সংগ্রামের পথকে আরও সুগম করে।







