রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে আবারও এক যৌনকর্মীকে মাথা থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে যৌনপল্লির একটি ভাড়া ঘর থেকে তাঁর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পর পর দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো যৌনপল্লিতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহত ওই নারীর নাম হুসনে আরা খাতুন (৩৫)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার মুক্তাগাছা এলাকার আবু তালেবের মেয়ে এবং দৌলতদিয়ার উজ্জ্বল মণ্ডলের বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কোনো এক সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ঘরের ভেতরে ঢুকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাঁকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রতিবেশীরা ঘরের দরজা খুলে হুসনে আরাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দিলে স্থানীয়রা গোয়ালন্দ ঘাট থানায় খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত নারীর কথিত স্বামী ও পল্লী চিকিৎসক মোস্তাককে আটক করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একই যৌনপল্লিতে সোনিয়া আক্তার নামে আরেক যৌনকর্মী কথিত প্রেমিকের মারধরে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গোয়ালন্দ ঘাট থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।







