বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলজুড়ে জুলাই বিপ্লবের চেতনা এবং শহীদ উসমান হাদির বৈপ্লবিক আহ্বান ছড়িয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
শুক্রবার ডাকসু প্রাঙ্গণে আয়োজিত ক্যালিগ্রাফি, আর্ট ও জুলাই গ্রাফিতি এক্সিবিশন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে জীবন দেওয়া শহীদ উসমান হাদির বৈপ্লবিক আহ্বান ক্যালিগ্রাফি, চিত্রকর্ম ও গ্রাফিতির মাধ্যমে তুলে ধরতেই এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের আঁকা চিত্রকর্ম পাঠিয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা থেকে মানুষ নিজেদের চিত্রকর্ম পাঠিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়, জুলাই বিপ্লব এবং শহীদ উসমান হাদির বৈপ্লবিক আহ্বান দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।
ডাকসু ভিপি বলেন, যারা বাংলাদেশের মাটি থেকে জুলাই বিপ্লব ও এর আকাঙ্ক্ষাকে মুছে দিতে চায়, তারা কখনো সফল হবে না। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এ দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাদের সংগ্রাম ও আকাঙ্ক্ষার কথা মানুষের কাছে বারবার তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন সাদিক কায়েম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে শহীদদের স্মৃতি নিয়মিতভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাদের আত্মত্যাগের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সবার দায়িত্ব। তাদের কথা যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাও তত বেশি শক্তিশালী হবে।
সাদিক কায়েমের অভিযোগ, এ ধরনের আয়োজন করা রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তারা বিপ্লবের সুফল নিলেও এর চেতনাকে ধারণ করার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে।
রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের ঘাটতি থাকলেও নাগরিকদের নিজস্ব উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি ও শহীদদের আত্মত্যাগ তুলে ধরার আয়োজন আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস ও শহীদদের অবদান তুলে ধরা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের নিয়মিত স্মরণ করতে হবে। তাদের আত্মত্যাগকে কোনো নির্দিষ্ট দিবস বা কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের সর্বস্তরে তুলে ধরতে হবে।
অনুষ্ঠানটি আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না ও আফসানা আক্তারকে ধন্যবাদ জানানো হয়। আয়োজন সফল করতে ডাকসুর পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মিনহাজের পরিশ্রমের কথাও তুলে ধরা হয়।
প্রদর্শনীতে ক্যালিগ্রাফি, চিত্রকর্ম ও জুলাই গ্রাফিতির মাধ্যমে জুলাই বিপ্লব, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আধিপত্যবিরোধী বিভিন্ন বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।







