ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সম্ভাব্য ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের প্রশাসনিক স্তরে চরম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগী কতিপয় আমলা প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নাশকতামূলক পরিস্থিতি বা সাবোটাজ তৈরি করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তাদের ওপর বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে প্রশাসনকে ব্যাপক রাজনৈতিকীকরণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময়ে ২০১৪ সাল থেকে ভারতের এনসিজিজিতে প্রায় ২,৬০০ জন এবং ২০১৯ সালের চুক্তি অনুযায়ী আরও ১,৮০০ জন আমলাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তৎকালীন সময়ে প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদোন্নতি ও পদায়নের জন্য এই প্রশিক্ষণকে একপ্রকার অলিখিত শর্ত হিসেবে দেখা হতো। তবে পটপরিবর্তনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও বিএনপি সরকারের সময়ও ওই প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া বহু কর্মকর্তা সচিবালয়সহ মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ পদে বহাল থাকায় তাঁদের বর্তমান গতিবিধি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ আমলে প্রশাসনে ভারতপন্থী আমলাদের প্রভাব এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, দলনিরপেক্ষ এবং বিএনপি-জামায়াতপন্থী যোগ্য ও মেধাবী কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়নে মারাত্মক হয়রানি করা হতো। প্রশাসনের এমন একপেশে ভারত-নির্ভরশীলতা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ বা পদোন্নতির জন্য নির্দিষ্ট কোনো একক দেশ শর্ত হতে পারে না এবং এ ধরনের নীতি দ্রুত খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি সরকারের জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে আমলাদের ভারতে প্রশিক্ষণ পুনরায় চালুর অনুরোধ জানানো হলে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাণিজ্যে সমতা ও গঙ্গার ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতের পাশাপাশি সম্পর্ক নির্দিষ্ট দলের বদলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এমনকি বিচারকদের ভারতে পাঠাবার একটি আগের সিদ্ধান্তও সম্প্রতি বাতিল করা হয়েছে।
প্রশাসনে বহাল থাকা দলীয় দোসরদের তালিকা প্রণয়নে বিভিন্ন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সংগঠন পিএমআরএস সহায়তা করছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দল ভারতের আগ্রাসী নীতি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছে। জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ আর কারও অধীনস্থ হয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না এবং সীমান্তে ফেলানীর মতো নৃশংসতা বা আন্তর্জাতিক নদীর পাওনা আদায়ে বাংলাদেশ এখন থেকে সমানে-সমান নীতিতে লড়াই করবে।







