পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাবা হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও পেশায় ‘জেলে’ (মাছ বিক্রেতা) ছিলেন বলে দাবি করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তবে ঐতিহাসিক নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে দেখা গেছে, জিন্নাহকে নিয়ে বিএনপি নেতার এই দাবি সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। ইতিহাসবিদদের মতে, জিন্নাহর বাবা কখনোই হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন না, বরং তিনি জন্মসূত্রে একজন প্রতিষ্ঠিত ও বিত্তশালী মুসলিম ব্যবসায়ী ছিলেন।

‘ব্রিটেনিকা’ ও বিশ্বখ্যাত ঐতিহাসিক জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাবার নাম ছিল জিন্নাহভাই পুঞ্জা। তিনি গুজরাটের কাথিয়াওয়ার থেকে ব্যবসায়িক সূত্রে করাচিতে এসে বসবাস শুরু করেন এবং টেক্সটাইল, শস্য ও আন্তর্জাতিক শিপিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তৎকালীন সময়ের খ্যাতনামা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘গ্রাহাম শিপিং অ্যান্ড ট্রেডিং’-এর তিনি অন্যতম ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন।
ঐতিহাসিক স্ট্যানলি ওলপার্ট তাঁর ‘জিন্নাহ অফ পাকিস্তান’ গ্রন্থে এবং ইতিহাসবিদ ডি. এন. পানিগ্রাহী তাঁদের গবেষণায় উল্লেখ করেছেন, জিন্নাহর দাদা পুঞ্জা মেঘজি হিন্দু লোহানা পরিবার থেকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন। তবে জিন্নাহর বাবা জন্মসূত্রেই কট্টর মুসলিম ছিলেন এবং তাঁর সন্তানকে সুন্নি ও শিয়া ঐতিহ্যসংবলিত রক্ষণশীল ইসলামিক পরিবেশে বড় করেন। ফলে জিন্নাহর বাবাকে সাধারণ মাছ বিক্রেতা বা হিন্দু দাবি করাকে ইতিহাসের চরম বিকৃতি হিসেবেই দেখছেন ইতিহাস বিশ্লেষকেরা।






