লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে দরিদ্র ও অসহায় নারীদের জন্য বরাদ্দ করা সেলাই মেশিন এক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পাওয়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও অনুদান বিতরণের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন তন্নি নামে এক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। স্থানীয়ভাবে তিনি বিএনপির মহিলা দলের উপজেলা পর্যায়ের নেত্রী হিসেবে পরিচিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রায়পুরে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল নগদ অর্থ, সেলাই মেশিন ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য হুইলচেয়ার।
অনুষ্ঠানটি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার সভাপতিত্ব করেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই কর্মসূচিতে ৪৮৬ জন গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে মোট ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ারও বিতরণ করা হয়।
তবে বিতরণ করা সেলাই মেশিনের একটি ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তন্নির হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিতর্ক শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, দরিদ্র ও অসহায় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য বরাদ্দ করা সহায়তায় একজন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ও নির্বাচনে পদপ্রার্থী ব্যক্তি কীভাবে উপকারভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলেন।
এ নিয়ে অনুদানের উপকারভোগী নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং তালিকা তৈরির স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, প্রকৃত অসহায়দের পরিবর্তে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সহায়তা পেলে এর উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।
একই কর্মসূচির নগদ সহায়তার তালিকায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম থাকার অভিযোগ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের একাংশ প্রকৃত উপকারভোগী বাছাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে শুধু তালিকায় রাজনৈতিক দলের কোনো নেতার নাম থাকা থেকেই অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্টদের যোগ্যতা, আয়-অবস্থা এবং উপকারভোগী নির্বাচনের সরকারি মানদণ্ড যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে, বিতরণ অনুষ্ঠানের ছবি ও তথ্য উপজেলা প্রশাসনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা বাড়ে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ওই পোস্ট সরিয়ে নেওয়া বা হাইড করা হয়েছে বলেও একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে পোস্ট সরানোর কারণ সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসনের কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
ঘটনাটি নিয়ে তন্নি বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে অনুদান পাওয়ার যোগ্যতা ও উপকারভোগী নির্বাচনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে। বর্তমানে বিতর্কের মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ করা সহায়তা প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায়দের কাছেই যথাযথভাবে পৌঁছেছে কি না।







