অর্থ, প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক শক্তি ও পরিবহনসহ সার্বিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও নিবিড় ও কৌশলগত রূপ দিতে ইরানের সঙ্গে ৪৪ পৃষ্ঠার এক মেগা রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করছে রাশিয়া। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল মেয়াদি এই মহাপরিকল্পনায় তেহরান ও মস্কোর মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত জোটের বিস্তারিত ব্লুপ্রিন্ট উঠে এসেছে।
বিশ্বজুড়ে আর্থিক লেনদেনে সুইফট বার্তা আদান-প্রদান ব্যবস্থা ও মার্কিন ডলারের একক আধিপত্য ভেঙে দিতে একজোট হয়ে কাজ করছে দুই দেশ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের অন্তত ৭১ শতাংশ লেনদেনই নিজেদের জাতীয় মুদ্রায় সম্পন্ন করা হবে। এই লক্ষ্যে রাশিয়ার পেমেন্ট সিস্টেম ‘মির’ এবং ইরানের ‘শেতাব’ নেটওয়ার্ককে সফলভাবে যুক্ত করার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি ও পারমাণবিক খাতেও পারস্পরিক সহযোগিতা অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটম। এর পাশাপাশি ইরানের সম্ভাবনাময় তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রে সরাসরি বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো।
পশ্চিমা কঠোর নিষেধাজ্ঞার যৌথ ধাক্কা সামলাতে প্রযুক্তির বিনিময়ে খোদ ইরানি ভূমিতেই রুশ বিমানের যন্ত্রাংশ তৈরি ও মেরামতের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত সরাসরি রেলওয়ে যোগাযোগ স্থাপন করে বহুল আলোচিত ‘আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোর’ পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর কাজ জোরকদমে এগিয়ে নিচ্ছে মস্কো ও তেহরান।







