নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের ১০নং দীঘি বাজারে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ের দুই কক্ষের একটি পাবলিক টয়লেট ভেঙে বিএনপির দলীয় কার্যালয় নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি খাস জায়গায় নির্মিত শৌচাগারটি ভেঙে সেখানে ঘর তুলে নোয়াখালী-৪ আসনের বিএনপিদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানের ছবিসংবলিত সাইনবোর্ড ঝোলানো হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাজারে আসা সাধারণ মানুষ জানান, গণশৌচাগারটি ভেঙে ফেলায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য নির্মিত সরকারি স্থাপনা ধ্বংস ও জায়গা দখলের এমন ঘটনাকে তারা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শৌচাগার ভেঙে নির্মিত ঘর দুটি বর্তমানে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক কমিটির সহসভাপতি মো. কামাল এবং বিএনপি নেতা মো. রাজিব এই দখলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, কামাল পুরোনো টয়লেটটি ভাঙেন এবং রাজিব ভাঙার খরচ দিয়ে ঘর তুলে বিএনপি কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙান।
সাংবাদিকরা অনুসন্ধানে গেলে বিএনপি সমর্থিত কয়েকজন স্থানীয়দের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং কার তথ্যে সাংবাদিকরা এসেছেন তা জানতে শাসায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে চরজুবিলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন উল্টো সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ফেলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে বিএনপির স্থানীয় অপরাপর নেতারা অনিয়মের অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, সরকারি সম্পত্তি দখল করে দলের ভাবমূর্তি নষ্টকারীদের বরদাশত করা ঠিক নয়। জনস্বার্থে অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে শৌচাগার উদ্ধার ও দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।







