রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে দরিদ্র ও নিম্নবিত্তদের সেবায় নিয়োজিত ঐতিহাসিক ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’-এ রাতের আঁধারে ২০০ থেকে ২৫০ জনের একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। ১৯৭৪ সাল থেকে ইউরোপীয় অনুদান ও সরকারি সহায়তায় পরিচালিত এই আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে বৃহস্পতিবার রাতে টানা এক ঘণ্টা তাণ্ডব চালানো হয়। হামলায় প্রসূতি মা ও শিশুদের টিকা, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, জরুরি ওষুধ, ফ্রিজ, এসি এবং নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
১০ কাঠা জমির ওপর অবস্থিত এই ক্লিনিকটি মূলত স্বাধীনতার পর জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রাপ্ত জায়গায় গড়ে উঠেছিল। সম্পত্তিটিকে নিজেদের দাবি করে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিঃ’ ব্যানারে স্থানীয় বিএনপির একদল সন্ত্রাসী এই হামলা ও দখলের ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ উঠেছে। তাণ্ডব শেষ করার পরপরই রাতেই সেখানে কথিত দোকান মালিক সমিতির নামে নতুন ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
ক্লিনিকের মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে শাহ আলী থানা অবস্থিত হলেও গভীর রাতজুড়ে চলা এই ধ্বংসযজ্ঞের সময় কোনো পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছাননি। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় থানা পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবেই নীরব ভূমিকা পালন করেছে। এই নজিরবিহীন ঘটনার নেপথ্যে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সংসদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার মদদ রয়েছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে ছুটির আগের রাতে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে একটি দাতব্য হাসপাতাল গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কোনো সম্পত্তি নিয়ে লিজের দাবি থাকলে তার জন্য আদালত ও রাজউকের প্রশাসনিক পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও এভাবে ‘মব কালচার’ ও জোরপূর্বক দখলদারিত্বের মাধ্যমে চিকিৎসা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ায় পুরো মিরপুর এলাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালে করোনাকালে পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে অগ্রণী ব্যাংকের কার্যালয় রাতে ভাঙচুর ও দখল করেছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন সংসদ সদস্য হাজী সেলিম। আইনের তোয়াক্কা না করে দখলদারিত্ব চালিয়ে তিনি যেমন শেষ রক্ষা পাননি, বর্তমান ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় এমন কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধেও একই পরিণতি অপেক্ষা করছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত অনতিবিলম্বে চিহ্নিত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণ উদ্ধার করে পুনরায় সেবামূলক কার্যক্রম চালু নিশ্চিত করা।







