একটি গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেশকে অস্থিতিশীল করার কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের শতাধিক নেতার নাম উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা কথিত গডফাদারদের একটি অংশ বিদেশে অবস্থান করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে দেশের ভেতরেও তাদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দেশে সহিংসতা উসকে দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে একটি চক্র। দেশের ভেতরে ও বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিরা সমন্বিতভাবে নাশকতার পরিকল্পনা, পরিচালনা ও অর্থায়নে যুক্ত রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বেশ কিছু অডিও রেকর্ড, ডিজিটাল প্রমাণ এবং গোপন বৈঠকসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট কিছু ‘ন্যারেটিভ’ জনমনে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে, রাজপথে সহিংসতা, ঝটিকা মিছিল কিংবা অগ্নিসংযোগের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে নিজেদের একটি সুসংগঠিত ও ব্যাপক জনসমর্থনসম্পন্ন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা। একই সঙ্গে আন্দোলনের মাধ্যমে রাজপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সক্ষমতা রয়েছে—এমন ধারণাও জনমনে তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।
তবে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু পরিকল্পনাকারীই দেশজুড়ে সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড উসকে দেওয়ার পেছনে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং নেপথ্যের নির্দেশদাতা ও অর্থদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল হামলার জন্য মাঠপর্যায়ে অর্থ ও বিস্ফোরক সরবরাহকারীদের একটি তালিকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে রয়েছে। মাঠপর্যায়ে যারা আগুন দেওয়া বা ককটেল বিস্ফোরণের মতো কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছে, তাদের অনেকেই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং সামান্য অর্থের বিনিময়ে এসব কাজে যুক্ত হচ্ছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতারা অবশ্য আড়ালে থেকেই এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নেপথ্যের নির্দেশদাতা ও অর্থের জোগানদাতাদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী কাজ করছে। এ ধরনের ষড়যন্ত্রকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও মাঠপর্যায়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগ, ককটেল হামলা ও অন্যান্য নাশকতা প্রতিরোধে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পর্যাপ্তসংখ্যক গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবেন।







