মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ফেসবুকে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৪ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কান প্রবাসী শ্রমিক আনোজন শিবরাসার মৃত্যুদণ্ডের সাজা বাতিল করেছেন সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দেশটির সর্বোচ্চ আদালত এই রায় দেন, যা দীর্ঘ কূটনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের পর একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুণ হেমচন্দ্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আনোজনের মাথার ওপর ঝুলতে থাকা মৃত্যুর পরোয়ানা বাতিল করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ ফার্স্ট’ ও ‘ডেইলি মিরর’-এ প্রকাশিত খবরে এই তথ্য উঠে এসেছে।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, গত ২৮ জুন ফেসবুকে একটি বিতর্কিত ভিডিওতে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে বিপদে পড়েন আনোজন। ভুল বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত সেই মন্তব্যটি মুছে ফেলেন এবং একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থ নাও করেন। তা সত্ত্বেও গত ১ জুলাই সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে। বিচারে প্রাথমিক পর্যায়ে তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ রিয়াল জরিমানা করা হলেও, গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক আপিল আদালত নাটকীয়ভাবে তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
মৃত্যুদণ্ডের এই বিতর্কিত রায়ের বিরুদ্ধে গত ১১ অক্টোবর সৌদি সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত আপিল করা হলে মাত্র দুদিনের মাথায় সর্বোচ্চ আদালত তা নাকচ করে সাজা বাতিল করেন। শ্রীলঙ্কান উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুই দেশের রাষ্ট্রদূত, আইনি দল ও সরকারের নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এই বড় স্বস্তি মিলল, যা আনোজনের পরিবারের কাছে চরম উৎকণ্ঠার পর আলোর দিশা নিয়ে এসেছে।
তবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল হলেও আনোজনের পরবর্তী আইনি ভবিষ্যৎ এবং দেশে ফেরা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে নাকি আগের নির্ধারিত কারাদণ্ড বহাল থাকবে—সে বিষয়ে এখনও সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মেলেনি। আপাতত আদালতের এই শিথিলতায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও চূড়ান্ত মুক্তির পথ চেয়ে অপেক্ষায় প্রহর গুনছে প্রবাসীর পরিবার।







