বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বাজেট থেকে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ও দুর্নীতির মামলার প্রধান আসামি সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত ১৫ অক্টোবর কাতার পুলিশ তাঁকে আটক করে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিমানবাহিনী প্রধানের দায়িত্বে থাকাকালে তিনি এই নজিরবিহীন আর্থিক দুর্নীতি ও জালিয়াতির সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বাৎসরিক বাজেট প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। সাবেক এই প্রধানের তিন বছরের মেয়াদে মোট বরাদ্দকৃত ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি বাজেটের প্রায় ২৫ শতাংশই (২৫০ মিলিয়ন ডলার) তিনি কমিশন ও দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য অন্তত ১০টি ‘মিগ-২৯’ ফাইটার জেটের বেসিক ভার্সন কিংবা সর্বাধুনিক ৫টি ‘মিগ-২৯ ইউপিজি’ (MIG-29UPG) সুপারসনিক যুদ্ধবিমান কেনা সম্ভব হতো।
দুর্নীতির কৌশল হিসেবে তিনি বিমানবাহিনীর ব্যবহার উপযোগী অন্তত ১৮টি স্থাপনা ভেঙে ফেলেন। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কমিশন বাণিজ্যের স্বার্থে অসৎ উদ্দেশ্যে তিনি নতুন ভবন নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন দেন, যেগুলোর বেশিরভাগই বর্তমানে অব্যবহৃত ও ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জাতীয় সম্পদের এমন অপচয় ও অপব্যবহারকে সশস্ত্র বাহিনীর ভেতর চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দেশদ্রোহী আচরণ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এই সেনাকর্তা দুর্নীতির অর্থ গোপন করতে নিজের পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যম বানিয়েছেন। গুলশানে ৪০ কোটি টাকা মূল্যের দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট তিনি তাঁর দুই স্ত্রীকে উপহার দেন। এছাড়া, প্রথম স্ত্রীর একমাত্র সন্তান—যে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী—তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অন্তত ৬০ কোটি টাকার সন্ধান মিলেছে।
লন্ডারিং চক্রের মাধ্যমে এই অর্থ বিদেশে পাচারের তথ্যও সামনে এসেছে। বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু জাফর চৌধুরীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় শেখ আব্দুল হান্নান এই হাজার হাজার কোটি টাকা দুবাই, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেন। স্পর্শকাতর ও জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সম্পর্কিত একটি শীর্ষ পদে বসে এমন ব্যাপক অর্থনৈতিক নাশকতা ও পাচারের ঘটনা সামরিক খাতের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।







