জয়পুরহাটে স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের ল্যাপটপ বণ্টন এবং সারের ডিলারশিপ নিয়োগে চরম অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। খোদ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সল আলিম এই দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। ফেসবুকে দেওয়া এক বিস্ফোরক পোস্টে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির এসব ল্যাপটপ সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে ‘খেয়ে ফেলা’ হয়েছে।
নিজের ফেসবুক ওয়ালে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ফয়সল আলিম লেখেন, সরকারি ও স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের ল্যাপটপগুলো ভাগাভাগি করে নিজেদের লোকেরাই সাবাড় করে দিয়েছে। বিগত ছয় মাসে বিভিন্ন খাত থেকে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পার্সেন্টেজ বা কমিশন খেয়ে শেষ করা হয়েছে। এখন আর খাওয়ার কিছু বাকি নেই, কারণ সব প্রক্রিয়া আপাততঃ স্থগিত হয়ে গেছে।
একই পোস্টে সারের ডিলারশিপ নিয়োগে ভয়াবহ স্বজনপ্রীতির বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, জয়পুরহাট ও পাঁচবিবি এলাকায় সারের ডিলারশিপ বণ্টনে বছরের পর বছর হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের সম্পূর্ণ বঞ্চিত করা হয়েছে। উল্টো নিজের স্বজন, স্ত্রী, ভাই, ছেলে, মেয়ে এমনকি শাশুড়ির নামেও ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়া হয়েছে। জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাদের এমন বেপরোয়া স্বজনপ্রীতি ও ভাগবাটোয়ারায় চরম হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
এই স্ট্যাটাস প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জয়পুরহাটের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা ফয়সল আলিমের এই অবস্থানকে সমর্থন জানালেও, দলীয় কোনো কোনো পক্ষ থেকে তাঁর এই প্রকাশ্য মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত’ বলে দাবি করা হয়েছে। তবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন এসব অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিএনপি নেতা ফয়সল আলিম নিজের অভিযোগে অনড় থাকার কথা জানান। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দল ও আন্দোলনের জন্য যারা বছরের পর বছর জেল-জুলুম সহ্য করলেন, সেই নির্যাতিত নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে নিজেদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে ডিলারশিপ ভাগ করে দেওয়া কোন ধরনের রাজনীতি? অনিয়মের বিরুদ্ধে এই প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।







