দেশে বসবাসকারী অমুসলিম সম্প্রদায়ের পূর্ণ সামাজিক ও নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলেও উদারতার অজুহাতে কোনো মুসলমান পূজায় অংশ নিলে কিংবা পূজা-অর্চনাকে সঠিক মনে করলে তার ঈমান থাকবে না বলে কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতী আব্দুল মালেক।
সম্প্রতি জাতীয় মসজিদে জুমার খুতবাপূর্ব বয়ানে আকিদাগত সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে খতিব বলেন, ইসলামের মূল ভিত্তি হলো একত্ববাদ বা তাওহীদ। আল্লাহ তাআলা চাইলে তাওহীদে বিশ্বাসী বান্দার অন্যান্য পাপ ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু শিরকের মতো মহাপাপ কখনো ক্ষমা করবেন না। মানবজাতিকে শিরকমুক্ত রেখে তাওহীদের সরল পথে আনতেই যুগে যুগে সব নবী-রাসূলদের দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছে।
মুসলিম দেশে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকারের বিষয়টি সুস্পষ্ট করে খতিব বলেন, অমুসলিমদের নিজ নিজ পরিসরে ধর্ম পালন করায় ইসলামের কোনো বাধা বা আপত্তি নেই। তারা যাতে সম্পূর্ণ নিরাপদে নিজ নিজ উপাসনালয়ে পূজা ও ধর্মীয় উৎসব সম্পন্ন করতে পারে, সেই শান্তিময় পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তবে অমুসলিমদের নিরাপত্তা দেওয়া আর আকিদাগতভাবে শিরককে সমর্থন করা যে সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সতর্ক করেন—উদারতা বা সামাজিক সৌহার্দ্যের নামে কোনো মুসলিম যদি পূজায় শরিক হয় কিংবা শিরকি আচারকে সঠিক পথ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তবে সে ঈমানহারা হয়ে যাবে।
বয়ানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ক্ষমার ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত তুলে ধরে মুফতী আব্দুল মালেক বলেন, তায়েফের ময়দানে চরম নির্যাতন ও রক্তাক্ত হওয়ার পরও মহানবী (সা.) জালিমদের বিনাশ চাননি; বরং তিনি তাদের প্রতি পরম সহনশীলতা দেখিয়েছিলেন এই আশায় যে, হয়তো তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাওহীদের পথে আসবে। তাই মুসলমানদেরও নিজেদের ঈমান-আকিদা পুরোপুরি অক্ষুণ্ন রেখে সমাজে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও ইনসাফ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।







