রাজধানীর মাতুয়াইলে শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে (আইসিএমএইচ) নিয়ম-নীতি ও জ্যেষ্ঠতা তোয়াক্কা না করে চিকিৎসকদের বিতর্কিত নিয়োগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইনস্টিটিউটের পেডিয়াট্রিক্স (শিশু) বিভাগে জ্যেষ্ঠ বিসিএস কর্মকর্তা ও পূর্ণাঙ্গ অধ্যাপক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও, অন্য বিভাগ থেকে এনে আওয়ামীপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ‘স্বাচিপ’-এর সক্রিয় সদস্য অধ্যাপক ডা. আ ন ম নুরুল হক ভূঁইয়াকে বিভাগীয় প্রধানের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) আইসিএমএইচের নির্বাহী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক বিতর্কিত অফিস আদেশে এই নিয়োগ প্রদান করা হয়। আদেশে বলা হয়, পূর্ববর্তী বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিওনেটাল (নবজাতক) বিভাগের অধ্যাপক ডা. নুরুল হক ভূঁইয়া নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি শিশু বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে থাকবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২১তম বিসিএসের কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক ভূঁইয়া ফ্যাসিবাদের অন্যতম দোসর আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার তালিকাভুক্ত সদস্য (সদস্য নম্বর: GM4601M)। স্বাচিপের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকা এবং রাজনৈতিক দলবাজির কারণে বিভিন্ন সময়ে তার দক্ষতা ও পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সাবেক স্বৈরাচারী আমলের আশীর্বাদে ও তদবিরের জোরে ২০২৫ সালে তিনি অধ্যাপক হিসেবে আইসিএমএইচে যোগদান করেন।
আইসিএমএইচের একাধিক সূত্রের অভিযোগ, শিশু বিভাগে তার চেয়ে জ্যেষ্ঠ, দক্ষ এবং একই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ও বিসিএস কর্মকর্তা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কোনো জ্যেষ্ঠতা বা যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে এই বিতর্কিত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক এই সুবিধাবাদী সিদ্ধান্ত ও আওয়ামীপন্থী চিকিৎসককে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে চরম অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন ও স্বাচিপের সদস্যকে রাজনৈতিক সুবিধাপ্রাপ্তি দেওয়ার বিষয়ে বক্তব্য জানতে অধ্যাপক ডা. আ ন ম নুরুল হক ভূঁইয়া এবং আইসিএমএইচের নির্বাহী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. এনামুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ক্ষুদেবার্তারও কোনো জবাব দেননি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।







