ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক মুখপাচ্ছত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির (ওসমান হাদি) শাহাদাতের পর থেকে প্রতিনিয়ত সামনে আসছে তাঁর জীবনের নানা আবেগঘন স্মৃতিচিহ্ন। এরই ধারাবাহিকতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিয়ের দিনের এক বিরল ও আবেগঘন চিত্র প্রকাশ করেছেন তাঁর বড় বোন মাসুমা হাদি। সেখানে বাবার পোশাক ও আভিজাত্য ধারণ করে বিয়ের পিঁড়িতে বসা ওসমান হাদির অমলিন স্মৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) নিজ ফেসবুক আইডিতে ছোট ভাই ওসমান হাদির বিয়ের পোশাকপরিহিত ছবি শেয়ার করে আবেগঘন একটি স্মৃতিচারণমূলক পোস্ট দেন মাসুমা হাদি। ছবিতে দেখা যায়, মরহুম বাবার রেখে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী আবা ও মাথায় পাগড়ি পরে বেশ সাদাসিধে আমেজে সেজেছেন ওসমান হাদি। ক্যাপশনে মাসুমা হাদি লেখেন, “গায়ে আব্বার আবা, মাথায় আব্বার পাগড়ি—আমাদের ওসমান গনি বিয়ের সাজে। জুমার নামাজ শেষে মসজিদেই ওসমান গনির বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল।”
উল্লেখ্য, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে আমৃত্যু মুখপাত্র ও আহ্বায়ক হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন বিপ্লবী এই নেতা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে রাজনীতিতে তরুণদের এক নতুন বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনে তাকে লক্ষ্য করে আততায়ী চক্রের প্রকাশ্য গুলি চালানো হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার পর ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ নেতা।
ওসমান হাদির ওপর নির্মম হামলার ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের তৎকালীন সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন, যা তাঁর মৃত্যুর পর সরাসরি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে তড়িঘড়ি করে আদালতে চার্জশিট জমা দিলে মামলার বাদী তাতে নারাজি আবেদন জানান। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে বর্তমানে মামলাটির অধিকতর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত পরিচালনা করছে সিআইডি।







