Tuesday, November 3, 2026
আজাদির ডাক
  • হোম
  • বাংলাদেশ
  • রাজনীতি
    • বিএনপি
    • আওয়ামী লীগ
    • জামায়াত
    • এনসিপি
    • অন্যান্য
  • আন্তর্জাতিক
  • বিশ্লেষণ
  • মতামত
  • ইসলাম
  • খেলা
  • ফিচার
  • ফটো
  • ভিডিও
  • বিবিধ
    • শিক্ষাঙ্গণ
No Result
View All Result
আজাদির ডাক
  • হোম
  • বাংলাদেশ
  • রাজনীতি
    • বিএনপি
    • আওয়ামী লীগ
    • জামায়াত
    • এনসিপি
    • অন্যান্য
  • আন্তর্জাতিক
  • বিশ্লেষণ
  • মতামত
  • ইসলাম
  • খেলা
  • ফিচার
  • ফটো
  • ভিডিও
  • বিবিধ
    • শিক্ষাঙ্গণ
No Result
View All Result
আজাদির ডাক
No Result
View All Result
Home আন্তর্জাতিক

হার্ভার্ডে ভর্তির স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারণা, প্রাণ গেল পাকিস্তানি তরুণীর

November 3, 2026
A A
হার্ভার্ডে ভর্তির স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারণা, প্রাণ গেল পাকিস্তানি তরুণীর

যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখেছিলেন পাকিস্তানের ২৪ বছর বয়সী মেধাবী তরুণী লাইবা ইজাজ। মেয়ের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে নিজের জমি বিক্রি করেছিলেন বাবা রানা মুহাম্মদ ইজাজ। বিক্রি করেছিলেন পরিবারের মূল্যবান গয়নাও। কিন্তু বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুহাম্মদ নোমান নামের এক ব্যক্তি তাঁদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। পরে ভর্তিসংক্রান্ত কাগজপত্র জাল বলে প্রমাণিত হলে ভেঙে পড়েন লাইবা। এর কয়েক দিনের মধ্যেই রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয় তাঁর।

গত ৯ অক্টোবর ইসলামাবাদে নিজেদের বাড়ির কাছ থেকে লাইবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও পরিবার তা মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, বিদেশে পড়তে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা নোমানই লাইবাকে হত্যা করেছেন।

লাইবা ছিলেন পদার্থবিজ্ঞানে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী। ইসলামাবাদের সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন তিনি। উচ্চশিক্ষার জন্য হার্ভার্ডে আবেদন করতে গিয়ে পরিচয় হয় নোমানের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কয়েক দফায় লাইবা ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে লাখ লাখ পাকিস্তানি রুপি নেন তিনি। পরে তাঁদের হাতে দেওয়া ভর্তি, বৃত্তি, ভিসা ও বিমান টিকিটসংক্রান্ত নথিপত্রের সবই জাল বলে জানা যায়।

লাইবার মৃত্যুর দুই দিন পর প্রতারণার অভিযোগে নোমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ২০ অক্টোবর পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, নোমানকে ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছিল।

২১ অক্টোবর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি লাইবার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় নোমানের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়ে পাঁচ মিলিয়ন রুপির বেশি অর্থ পরিবারের হাতে তুলে দেন তিনি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা নয়, বরং পাকিস্তানি মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন ডলার।

তবে অর্থ দিয়ে মেয়েকে হারানোর শোক পূরণ করা সম্ভব নয় লাইবার বাবা-মায়ের কাছে। তাঁদের সবচেয়ে বড় ক্ষতি অর্থনৈতিক নয়; হারিয়ে গেছে পরিবারের আদরের সন্তান, যার ভবিষ্যৎ ঘিরে ছিল অসংখ্য স্বপ্ন।

হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন লাইবা

ইসলামাবাদের জি-১০ এলাকায় অবস্থিত ‘রানা মালিক সেন্টার’ নামে একটি দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দোকান। দোকানের ওপরের ফ্ল্যাটেই তিন দশকের বেশি সময় ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন লাইবার বাবা রানা মুহাম্মদ ইজাজ।

অক্টোবরের শেষ দিকে দোকানের বাইরে বসে আলজাজিরার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মেয়েকে হারানোর স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি। জানান, প্রতিদিন সকালে বাবার জন্য চা তৈরি করতেন লাইবা। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেও বাবাকে চা করে দিতেন। এমনকি ঘুমানোর আগে বাবার কাঁধ মালিশ করে দেওয়াও ছিল তাঁর অভ্যাস।

মেয়ের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে ইজাজ বলেন, ‘এখন সে নেই। এসব কথা খুব মনে পড়ে।’

ইজাজ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তাঁর স্ত্রী পড়েছেন দশম শ্রেণি পর্যন্ত। তবে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার বিষয়ে তাঁরা ছিলেন সচেতন। তাঁদের চার মেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। একজন বৃত্তি নিয়ে চীনে গিয়ে ম্যান্ডারিন ভাষা শিখছেন। লাইবাও বৃত্তি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে স্বর্ণপদক পাওয়ার দিন আনন্দে আত্মহারা হয়ে বোনদের সামনে নেচেছিলেন এবং লাফিয়ে উঠেছিলেন তিনি। পরে ইসলামাবাদের একটি স্কুলে বিজ্ঞান শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাসায় গিয়ে পড়াতেন।

বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষার জন্য সৌদি আরবের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বৃত্তির প্রস্তাব পেয়েছিলেন লাইবা। কিন্তু তাঁর লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা। বিশেষ করে হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্ন তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াত।

এ জন্য বাবার কাছে বিদেশে পড়াশোনার খরচ চান তিনি। ইজাজের স্মৃতিতে, মেয়ে তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি নিজেই সব কাজ করেছি, টিউশনিও করাই। তুমি কি আমার জন্য এটুকু করতে পারবে না?’

মেয়ের আবদারে সাড়া দিয়ে বাবা বলেছিলেন, ‘আমার আদরের মেয়ে, আমি করব।’

ইজাজ জানান, এরপর থেকেই তাঁরা মেয়েকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথে যে প্রতারণার ফাঁদ অপেক্ষা করছিল, তা বুঝতে পারেননি তাঁরা।

সরকারি পরিচয়পত্র দেখিয়ে আস্থা অর্জন

চলতি বছর ইসলামাবাদের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা ব্লু এরিয়ার একটি কল সেন্টারে কাজ করার সময় নোমানের সঙ্গে লাইবার পরিচয় হয়। সেখানে রাতের পালায় কাজ করতেন তিনি। সহকর্মীদের বেশির ভাগ পুরুষ হওয়ায় মেয়ের কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন বাবা। একপর্যায়ে চাকরি ছেড়ে দিতে বললে লাইবা সেটি ছেড়ে দেন।

এরপর নোমান তাঁদের দোকানে দুধ ও দই কিনতে আসতে শুরু করেন। একদিন কথাবার্তার একপর্যায়ে লাইবার সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান তিনি। ইজাজ তাঁকে জানান, তাঁরা সৌদি আরব নয়, যুক্তরাষ্ট্রে মেয়েকে পাঠাতে চান।

এ সময় নোমান দাবি করেন, তিনি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে চাকরি করেন। নিজের একটি চাকরির পরিচয়পত্রও দেখান। তাঁর দাবি ছিল, সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় বিদেশে শিক্ষার্থী পাঠানোর কাজে সহায়তা করতে তাঁর কোনো বিশেষ লাইসেন্সের প্রয়োজন নেই।

ইজাজ বলেন, ‘পরিচয়পত্রটি আমার কাছেও আসল মনে হয়েছিল। পাশের লোকজনকেও দেখিয়েছিলাম।’

এরপর নোমান লাইবার হার্ভার্ডে ভর্তির আবেদনপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতার প্রস্তাব দেন। তাঁর কথায় বিশ্বাস করে বাবা ও মেয়ে রাজি হয়ে যান। ইজাজের ভাষায়, ‘এটাই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল।’

ইজাজের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি বাবদ প্রথমে নোমানকে ২২ লাখ পাকিস্তানি রুপি দেওয়া হয়। পরে নোমান জানান, হার্ভার্ডে আবেদনের জন্য ৭২ লাখ রুপির আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হবে। এ অর্থ তাঁর ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নিয়ে ডলারে রূপান্তর করার কথাও বলেন তিনি।

মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কোনো কিছু যাচাই না করেই নোমানের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করেন ইজাজ। এ জন্য নিজের একটি জমি বিক্রি করেন। পরিবারের গয়নাও বিক্রি করে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করেন।

ইজাজ বলেন, ‘মেয়েকে সাহায্য করার জন্য আমার একটি জমি বিক্রি করেছি। পরিবারের গয়নাও বিক্রি করেছি, যাতে চাওয়া ৭২ লাখ রুপি জোগাড় করতে পারি।’

হার্ভার্ডের ভর্তি ও ভিসার নামে জাল নথি

আলজাজিরার হাতে আসা নথিপত্রে লাইবার যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার আবেদনসংক্রান্ত বেশ কিছু কাগজপত্রের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছিল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও বৃত্তির প্রস্তাবসংবলিত চিঠি, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনসংক্রান্ত ফরম, নিউইয়র্কে বসবাসকারী এক আত্মীয়ের স্পনসরশিপের হলফনামা, লাইবার ছবি সংবলিত দূতাবাসের একটি নথি এবং বোস্টনে যাওয়ার বিজনেস ক্লাসের বিমান টিকিট।

ইজাজ জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নোমান তাঁদের হাতে সর্বশেষ নথির ফাইলটি তুলে দেন। সেখানে লাইবার নামে একটি ব্যাংক হিসাবের বিবরণী এবং ১২ অক্টোবর ভিসা সাক্ষাৎকারের তারিখ উল্লেখ ছিল।

অক্টোবরের শুরুতে মেয়ের ভিসা সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলতে নোমানকে ফোন করেন ইজাজ। নোমান জানান, তিনি কোয়েটায় রয়েছেন এবং পরদিন ফিরে আসবেন।

কিন্তু তাঁর কথাবার্তায় সন্দেহ তৈরি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা সব নথিপত্র নিয়ে একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে যান। সেখানে প্রথমেই বোস্টনে যাওয়ার বিমান টিকিটটি ভুয়া বলে জানা যায়। পরে পরিবারের এক আইনজীবী প্রতিবেশী পুরো নথিপত্র পরীক্ষা করে জানান, কোনো কাগজই আসল নয়।

ইজাজ বলেন, ৬ অক্টোবর তাঁরা নিশ্চিত হন যে নোমান তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

এ খবর জানার পর পুরো পরিবার ভেঙে পড়ে। বিশেষ করে লাইবা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। বাবা তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলতেন, যা হওয়ার হয়ে গেছে, তা নিয়ে আর চিন্তা না করতে। কিন্তু লাইবা তখনো আশা ছাড়েননি। তাঁর বিশ্বাস ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিংবা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় হয়তো তাঁর প্রকৃত আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কোনো ব্যবস্থা করতে পারে।

শেষ সকাল: একটি বার্তার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান লাইবা

৯ অক্টোবর শুক্রবার জুমার নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রানা মুহাম্মদ ইজাজ। সে সময় দোকান বন্ধ করার কাজ করছিলেন তিনি। এমন সময় লাইবা তাঁকে জানান, নোমান একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি তাঁদের এলাকার মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসবেন।

কিন্তু নোমানের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলেন ইজাজ। মেয়েকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘লাইবা, মা আমার, সে আসবে না। তার বার্তা শোনার কোনো প্রয়োজন নেই।’

তিনি মেয়েকে ঘরের ভেতরে থাকতে বলেন এবং স্ত্রীকেও বিষয়টি খেয়াল রাখতে অনুরোধ করেন।

কিন্তু পরে বাড়িতে ফিরে স্ত্রী তাঁকে জানান, নোমানের বার্তা পাওয়ার পর মায়ের আপত্তি সত্ত্বেও লাইবা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছেন।

ইজাজ বলেন, ‘এ কথা শোনার পর মনে হয়েছিল, আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে।’

এরপর মেয়েকে খুঁজতে জামাতা জায়েদ বিন আফজাল ও ছোট ছেলেকে পাঠান তিনি। এ সময় লাইবার এক বোন একটি অ্যাপের সাহায্যে তাঁর মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করতে সহযোগিতা করেন। অ্যাপের মাধ্যমে ফোনটির অবস্থান বাড়ির কাছাকাছি একটি এলাকায় পাওয়া যায়।

বাড়ি থেকে বের হওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লাইবার মরদেহ খুঁজে পান তাঁরা।

জামাতা জায়েদ পুলিশ জরুরি নম্বরে ফোন করেন। এরপর শ্বশুরকে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। তবে ফোনে লাইবার মৃত্যুর কথা সরাসরি জানাতে পারেননি তিনি। শ্বশুরকে শুধু বলেন, লাইবা জেদ করছেন এবং বাড়িতে ফিরতে চাইছেন না।

কিন্তু ইজাজের মনে তখনই অজানা আশঙ্কা তৈরি হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। যে মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই মেয়ের নিথর দেহ সামনে দেখে ভেঙে পড়েন বাবা।

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে

লাইবার ঘটনা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আগ্রহী পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান প্রবণতার মধ্যেই সামনে এসেছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনের ‘ওপেন ডোরস’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৩ হাজারের বেশি পাকিস্তানি শিক্ষার্থী ভর্তি ছিলেন। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় এ সংখ্যা ৭৫ শতাংশ বেশি।

তবে বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ খুঁজতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবার প্রতারণার ঝুঁকিতে পড়ছেন। বিশেষ করে ভুয়া শিক্ষা পরামর্শক, জাল ভর্তি ও বৃত্তির চিঠি এবং ভিসা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) জানিয়েছে, নোমান কোনো নিবন্ধিত ভিসা এজেন্ট ছিলেন না।

দেশটির বিদেশে উচ্চশিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন অল পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন অব ফরেন এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টসের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সরকারি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই।

লাহোরভিত্তিক শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কলেজওয়ার্কসের সহপ্রতিষ্ঠাতা নুশমিয়া সুকেরা আলজাজিরাকে বলেন, শিক্ষা পরামর্শকদের নিবন্ধন বা তাঁদের কার্যক্রম তদারকির জন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়েছে বলে তিনি জানেন না।

তিনি বলেন, ‘কোনো শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনপ্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা জরুরি। কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আবেদন করলেও তার পরিচয়, নিবন্ধন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত না হয়ে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া উচিত নয়।

পুলিশ হেফাজতে নোমানের মৃত্যু, তদন্তে নতুন প্রশ্ন

লাইবার মৃত্যুর এক দিন পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নোমানকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় পুলিশ ও এফআইএ পৃথক দুটি মামলা করে।

আরওপড়ুন

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

ভারতের আইটেক স্কিমে বাংলাদেশ থেকে ৪২ সাংবাদিকের প্রশিক্ষণ: নাম প্রকাশের দাবি সচেতন মহলের

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর তদন্তের প্রয়োজনে তথ্য-প্রমাণ উদ্ধারের জন্য নোমানকে নিয়ে একটি অভিযানে যাচ্ছিল পুলিশ। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার ব্যক্তি তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল নোমানকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া। তবে হামলায় নোমানও গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নোমানের মৃত্যুর ঘটনায় এখনো নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

লাইবার পরিবারের কাছে নোমানের মৃত্যু কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পাওয়ার মতো ঘটনা বলে মনে হয়েছে। মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তির পরিণতি সম্পর্কে ইজাজ বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে যা ঘটেছে, তা ঠিকই হয়েছে।’

তবে লাইবার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। আলজাজিরাকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ভিডিও ফুটেজে লাইবাকে হাতে মোবাইল ফোন নিয়ে একা বাড়ি থেকে বের হতে দেখা গেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আরও ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রয়োজন। এসব প্রতিবেদন পেতে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে।

অন্যদিকে লাইবার পরিবার পুলিশের প্রাথমিক ধারণা মেনে নিতে পারছে না। জামাতা জায়েদ বলেন, লাইবার মরদেহ উদ্ধারের পর তাঁদের মনে হয়েছে, তিনি নিজে এমন কিছু করতে পারেন না।

বাবা ইজাজের অভিযোগ আরও সরাসরি। তিনি বলেন, ‘সে নিজে মারা যায়নি। নোমানই তাকে হত্যা করেছে।’

তবে পরিবারের অভিযোগের পক্ষে এখনো চূড়ান্ত তদন্তপ্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। ফলে লাইবার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ফরেনসিক প্রতিবেদন ও পুলিশের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

একটি স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে জমি ও পরিবারের গয়না বিক্রি করেছিলেন বাবা। কিন্তু হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্ন আর পূরণ হলো না লাইবার। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেয়নি, বিদেশে উচ্চশিক্ষার নামে প্রতারণার ঝুঁকি এবং শিক্ষার্থী সুরক্ষায় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দুর্বলতাও নতুন করে সামনে এনেছে।

Related Posts

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা
আন্তর্জাতিক

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

November 2, 2026
ভারতের আইটেক স্কিমে বাংলাদেশ থেকে ৪২ সাংবাদিকের প্রশিক্ষণ: নাম প্রকাশের দাবি সচেতন মহলের
আন্তর্জাতিক

ভারতের আইটেক স্কিমে বাংলাদেশ থেকে ৪২ সাংবাদিকের প্রশিক্ষণ: নাম প্রকাশের দাবি সচেতন মহলের

November 2, 2026
নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের আহ্বান ইসরাইলিদের
আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের আহ্বান ইসরাইলিদের

November 1, 2026

সপ্তাহের সেরা

  • ​ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ

    ​ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • হাসিনা মামলায় শেষ সাক্ষীর জবানবন্দি কাল, রায় কবে?

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক শেষে যে সিদ্ধান্ত এলো

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন কে, জানালেন শফিকুল আলম

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ৭৬ শতাংশ ছাত্রীই যৌন হয়রানির শিকার

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সর্বশেষ খবর

বাসের ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ

বাসের ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ

November 3, 2026
জামায়াত আমিরের অনুমতি নিয়ে সব সত্য প্রকাশ করব: আখতারুজ্জামান

জামায়াত আমিরের অনুমতি নিয়ে সব সত্য প্রকাশ করব: আখতারুজ্জামান

November 3, 2026
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী

November 3, 2026
  • হোম
  • গোপনীয়তা নীতি
  • শর্তাবলি ও নীতিমালা
  • যোগাযোগ
ইমেইল: [email protected]

স্বত্ব © ২০২৪-২০২৫ আজাদির ডাক | সম্পাদক: মঈনুল ইসলাম খান | ৩, রাজউক এভিনিউ, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০

No Result
View All Result
  • হোম
  • বাংলাদেশ
  • রাজনীতি
    • বিএনপি
    • আওয়ামী লীগ
    • জামায়াত
    • এনসিপি
    • অন্যান্য
  • আন্তর্জাতিক
  • বিশ্লেষণ
  • মতামত
  • ইসলাম
  • খেলা
  • ফিচার
  • ফটো
  • ভিডিও
  • বিবিধ
    • শিক্ষাঙ্গণ

স্বত্ব © ২০২৪-২০২৫ আজাদির ডাক | সম্পাদক: মঈনুল ইসলাম খান | ৩, রাজউক এভিনিউ, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০