ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর জোট সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তেল আবিবের হাজারো বিক্ষোভকারী। তাঁদের দাবি, সরকার পরিবর্তনের জন্য বিরোধীদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন নেওয়া প্রয়োজন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিরোধী দলগুলোর হাতে সরকার গঠনের জন্য ৬৭টি আসনের সমর্থন রয়েছে। এর মধ্যে ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ঐতিহাসিক ১৯ আসনের সমর্থনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
তেল আবিবের রাস্তায় জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা বিরোধী নেতাদের উদ্দেশে বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত হবে না। তাঁদের মতে, জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে বিরোধীদের দ্বিধা
তবে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে এ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা কিংবা সরকার গঠনে তাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে আগ্রহী নন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থান বিরোধী শিবিরের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ, নেতানিয়াহু ও তাঁর জোটসঙ্গীদের সঙ্গে সরকার গঠন না করার প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে হলে বিকল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিক্ষোভকারীদের মতে, সরকার পরিবর্তনের পক্ষে জনমতকে কাজে লাগাতে হলে আইজেনকোটসহ বিরোধী নেতাদের রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। শুধু ইহুদি-ইসরাইলি দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করে কাঙ্ক্ষিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা কঠিন হতে পারে।
তেল আবিবে সরকার পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ
তেল আবিবের বিক্ষোভে সরকার পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীরা মনে করেন, নির্বাচনের ফলাফলকে কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটানোর সুযোগ রয়েছে।
তাঁদের দাবি, জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিরোধী দলগুলোর নেতাদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনা বিবেচনা করার জন্য তাঁরা বিরোধী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
তবে এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে বিরোধী দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতা এবং সরকার গঠনের প্রশ্নে তাদের অবস্থানের ওপর।
ডানপন্থিদের পাল্টা বিক্ষোভ
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর জোটের সমর্থকেরাও বিক্ষোভ করেছেন। ডানপন্থি বিক্ষোভকারীরা সরকারে ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি দলগুলোর অন্তর্ভুক্তি বা তাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করার বিরোধিতা করেন। তাঁদের বক্তব্যে এসব দলকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা দেখা গেছে।
ইসরাইলের ডানপন্থি রাজনৈতিক মহলে ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের নির্বাচনী অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও বিতর্ক চলছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কেউ কেউ তাঁদের নির্বাচনী অংশগ্রহণকে ‘নির্বাচনি সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করছেন। এমনকি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলার ঘটনার সঙ্গেও এই রাজনৈতিক অংশগ্রহণের তুলনা করছেন কেউ কেউ।
এ ধরনের বক্তব্য ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আরব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব, নাগরিক অধিকার এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বিদ্যমান মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের ভোট
ইসরাইলের সরকার গঠনের সমীকরণে ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলো যদি নেতানিয়াহুর জোটের বাইরে বিকল্প সরকার গঠন করতে চায়, তাহলে তাদের পারস্পরিক সমঝোতা ও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে গাদি আইজেনকোটের অবস্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় না গেলে বিরোধীদের সরকার গঠনের সম্ভাবনা কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর দাবির পাশাপাশি ইসরাইলের রাজনীতিতে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা শেষ পর্যন্ত তাদের সমর্থন গ্রহণ করবে কি না, সেটিই সরকার গঠনের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।







