বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর জেলগেটে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় সত্য ও ন্যায়ের রাজনীতির জয় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জামায়াতের এই নেতা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
কারামুক্তির পর সাংবাদিকদের উদ্দেশে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, ‘সত্যের রাজনীতি কখনো পরাজিত হবে না। ন্যায়ের রাজনীতি কখনো পরাজিত হবে না। সময় লাগতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত জয় সত্যের হবেই হবে, ন্যায়ের হবেই হবে।’
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা আল্লাহর পথে আছি, আমরা আল্লাহর শাসন কায়েম করার পক্ষে আছি, আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির পক্ষে আছি।’
একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীন বাংলাদেশের আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেন, ‘আমরা এ দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনা বাস্তবায়ন করার পক্ষে আছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা সামনে এগিয়ে যাব। দোয়া করবেন আমার জন্য, আমরা যেন জনগণের পাশে থাকতে পারি। জনগণের অধিকারের আন্দোলনে থাকতে পারি।’
কারামুক্তির পর তাঁকে স্বাগত জানাতে কারাগারের সামনে উপস্থিত হওয়া নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আজকে এখানে আমার ভাইয়েরা অত্যন্ত কষ্ট করে এসেছেন। আমি তাঁদের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। উনারা আজকে আমার শক্তি।’
জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি তাঁকে নতুন করে সাহস জুগিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতের ভাইয়েরা পাশে থাকায় তিনি যে শক্তি পেয়েছেন, তাতে তাঁদের প্রতিবাদ ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এ সময় নিজের বক্তব্য ও পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানান তিনি।
আখতারুজ্জামান বলেন, জামায়াতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর নির্দেশনা নেওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা ও সত্য তুলে ধরবেন। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার আগে দলের প্রধানের নির্দেশনা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কারামুক্তির পর দেওয়া বক্তব্যে আখতারুজ্জামান সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে রাজনৈতিক অবস্থান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সক্রিয় থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।







