বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল খন্দকার মিসবাহ-উল-আজিম গত ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ১১ দিনের সরকারি সফরে ফ্রান্সে পাড়ি জমিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সুপরিচিত প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী ‘ইউরোন্যাভাল ২০২৬’-এ অংশগ্রহণ তাঁর অফিশিয়াল লক্ষ্য হলেও এই সফর ঘিরে ভারতের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা মহলে তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর দাবি, এই সফরে ফরাসি নৌ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফরাসি প্রযুক্তির ‘অ্যাগোস্টা-৭০’ (Agosta-70) ও ‘অ্যাগোস্টা-৯০বি’ (Agosta-90B) সাবমেরিন ক্রয়ের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ হতে পারে।
তবে সাউথ ব্লকের উদ্বেগ বাড়িয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য কারিগরি সহযোগিতার গুঞ্জন। ভারতীয় মিডিয়াগুলোর দাবি, বাংলাদেশ ফরাসি প্রযুক্তি থেকে অ্যাগোস্টা সাবমেরিন সংগ্রহ করলে সেগুলোর পরিচালনা, জটিল রক্ষণাবেক্ষণ এবং সাবমেরিনারদের বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহায়তা নেওয়া হতে পারে।
পাকিস্তান নৌবাহিনী দীর্ঘ দিন ধরে অত্যন্ত সফলভাবে অ্যাগোস্টা-৭০ ও ৯০বি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করে আসছে। ফলে ফরাসি প্রযুক্তি কিনে পাকিস্তানের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর একটি ত্রিমুখী সমীকরণ তৈরি হতে পারে, যা বঙ্গোপসাগরে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বর্তমানে পাকিস্তানের নৌ বহরে রয়েছে ৫টি অ্যাগোস্টা সাবমেরিন। এর মধ্যে আধুনিক ‘অ্যাগোস্টা-৯০বি’ সংস্করণে রয়েছে ফরাসি ‘মেসমা’ (MESMA) এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশন বা এআইপি (AIP) প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির কারণে সাবমেরিনকে ব্যাটারি চার্জের জন্য বারবার পানির ওপরে আসতে হয় না, ফলে তা শত্রুর রাডার ও সোনার এড়িয়ে দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করতে সক্ষম।
এছাড়া অ্যাগোস্টা-৯০বি-তে থাকা ‘সাবটিক্স’ সমন্বিত কমব্যাট সিস্টেম, ৫ ৩৩ মিমি টর্পেডো টিউব এবং ভারী টর্পেডোর পাশাপাশি ‘এসএম৩৯ এক্সোসেট’ (SM39 Exocet) অ্যান্টি-শিপ মিসাইল ছুড়তে পারার মারাত্মক সক্ষমতা একে একটি অপরাজেয় মারণাস্ত্রে পরিণত করেছে। সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের সাবমেরিন বহরের এই সম্ভাব্য আধুনিকায়ন আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা সমীকরণে বড় ধরনের তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।







