ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাসে কর্মক্ষেত্রে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কন্টেইনারের নিচে চাপা পড়ে তিন বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলের প্লেইন-দে-পাপাই এলাকার মস্ক রোডে অবস্থিত একটি প্রতিষ্ঠানের চত্বরে গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তিন বাংলাদেশি শ্রমিক হলেন—মোহাম্মদ মিরাজ হোসেন (৩৬), হোসেন মো. বেলাল (৩৭) ও সিকদার জুবায়েদ ইসলাম (২৫)। তাঁরা সবাই প্লেইন-দে-পাপাই এলাকায় অবস্থিত একটি অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কর্মরত ছিলেন।
মরিশাসের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ডেফি মিডিয়া’ ও ‘লেক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সময় একটি বিশাল কন্টেইনার থেকে কাচের প্যানেলভর্তি অতি ভারী কাঠের বাক্স নামানোর কাজ করছিলেন প্রবাসীরা। হঠাৎ নিয়ন্ত্রণে থাকা ৮ ফুট লম্বা ও ৬ ফুট চওড়া কাচের প্যানেলভর্তি কাঠের বাক্সগুলো অসাবধানতাবশত কন্টেইনারের ভেতরে থাকা তিন শ্রমিকের ওপর ভেঙে পড়ে। ভারী কাচের চাপায় ঘটনাস্থলেই তাঁদের করুণ মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে প্লেইন-দে-পাপাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে মৃতদেহ উদ্ধার করতে হিমশিম খেলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের তলব করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের স্পেশাল টিম এসে ভারী বাক্সের নিচ থেকে তিন প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে কর্মক্ষেত্রে মারাত্মক গাফিলতি বা নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ ওঠায় মরিশাসের শ্রম মন্ত্রণালয় কঠোর তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। কর্মস্থলে সঠিক নিরাপত্তাবিধি এবং শ্রমিকদের জীবন রক্ষাকারী ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) প্রদান করা হয়েছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তারা।
মরিশাসের প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো শ্রমিকদের স্বজনদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে নিহতদের মরদেহ সম্পূর্ণ নিজ খরচে দ্রুত বাংলাদেশে স্বজনদের কাছে পৌঁছানোর সব দায়িত্বও ওই প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হবে।







