দেশের আকাশসীমা সুরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী। চীনের তৈরি ৪.৫ প্রজন্মের ২০টি ‘জে-১০সিই’ (J-10CE) মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ) যুদ্ধবিমান ক্রয়ে মিলেছে প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত সম্মতি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক অনুমোদন।
সরকার থেকে সরকার (জি-টু-জি) প্রক্রিয়ায় চুক্তিটি বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সুদসহ প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা (২১৩ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার)। সব প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে আগামী বছরই এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
চীনের সরকারি সংস্থা চায়না ন্যাশনাল অ্যারো-টেকনোলজি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএটিআইসি) থেকে এসব ফাইটার জেট কেনা হচ্ছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রথম কিস্তিতে ২০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৩৯ কোটি ১৯ লাখ ডলার অগ্রিম পরিশোধ করা হবে। আসল ১৯৬ কোটি ডলারের পাশাপাশি ১৭ কোটি ডলার সুদ ধরে বাকি অর্থ দুই বছরের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ শেষে ছয়টি বার্ষিক কিস্তিতে শোধ করা হবে।
২০২৪ সালের আগস্টে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এই বহুমাত্রিক সামরিক ক্রয়প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর গঠিত নতুন বিএনপি সরকারও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে এই উদ্যোগ সচল রাখে। মূলত বিমানবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বিমানবাহিনীর বহরে থাকা বেশ পুরোনো এফ-৭ এবং সীমিতসংখ্যক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের স্থলাভিষিক্ত করতেই এই আধুনিক ফাইটার জেট অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। ২০২৫ সালে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তেজনায় ফরাসি রাফালের মুখোমুখি হয়ে আলোচনায় আসা এই ‘জে-১০সিই’ যুদ্ধবিমান যুক্ত হলে বাংলাদেশের আকাশসীমার সার্বভৌমত্ব ও বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।







